ইসলাম
ইসলাম

মুমিনের পরীক্ষা | মুমিনের বৈশিষ্ট্য পর্ব ২

ল্যাপটপ কাজ করছিল না। প্রথমে ভাবলাম ব্যাটারির সমস্যা, নতুন ব্যাটারি কিনলাম কিন্তু সমস্যার সমাধান হলো না। আবার গেলাম ঐ দোকানে, সমস্যা নাকি চার্জারে, নতুন একটা চার্জারও কিনলাম। সঙ্গে এক ছোট ভাই ছিলো, আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটা সমস্যায় একসাথে এতগুলো টাকা চলে গেলো বলে তাকে আফসোস করেই বললাম, হুদাই টাকাগুলো গচ্ছা গেলো।

ছোটভাই জবাব দিলো – ভাই এভাবেই তো আল্লাহ একজনকে দিয়ে আরেকজনের রিযিকের ব্যবস্থা করেন!সময়ের এক্সিসে মাপলে কথাটা বলতে কয়েক সেকেন্ড লেগেছে কিন্তু মুহুর্তেই চিন্তার জগৎটা ১৮০ ডিগ্রী কোণে ঘুরে গেলো। আরে তাইতো? এভাবেই তো এই দোকানির রিযিকের ব্যবস্থা হয়, ঠিক সেভাবেই আমাদের সবার রিযিকের পেছনেও আল্লাহ কাউকে না কাউকে উছিলা বানিয়ে দেন। হঠাৎ আরো একটা উপলব্ধি হলো। উত্তম সোহবত!

আল্লাহ কুরআনে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ

O you who have believed, fear Allah and be with those who are true.

“তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো” [সূরা আত তাওবাঃ আয়াত ১১৯]

وَمَن يَتَوَلَّ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ فَإِنَّ حِزْبَ اللّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ

And whoever is an ally of Allah and His Messenger and those who have believed – indeed, the party of Allah – they will be the predominant.

“আর যারা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই আল্লাহর দল এবং তারাই বিজয়ী।“ [সূরা মায়েদাঃ আয়াত ৫৬]

:هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَن تَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ الْأَخِلَّاء يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ

Are they waiting except for the Hour to come upon them suddenly while they perceive not? Close friends, that Day, will be enemies to each other, except for the righteous

“তারা কেবল কেয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে,আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে যাবে এবংতারা খবর ও রাখবে না। বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়”। [সূরা আয যুখরুফ: আয়াত ৬৬-৬৭]

কেমন সঙ্গী আপনি বেছে নিচ্ছেন কিংবা কাদের সোহবতে সময় কাটাচ্ছেন এটাই মূলত আপনার জীবনের পরণিতি নির্ধারণ করে দিবে। এমনকি মৃত্যুশয্যায়ও এই বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারটা ভূমিকা রাখবে। মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মানুষ মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছে গেলে তার সামনে পেশ করা হয় বন্ধু বান্ধবদের।

মরাণাপন্ন ব্যক্তি আড্ডাবাজ ও বিলাসপ্রিয় হলে তার সাথীগুলো হয় বদকার। আর সে ভালো মানুষ হলে সঙ্গীগুলো হয় নেককার। মুফতী শফী (রাহিঃ) বলেন – এজন্যই মানুষের উচিত উদাস ও আমুদে লোকদের সঙ্গ থেকে দূরে অবস্থান করা।

অথচ আজ আমাদের ভালো বন্ধু কারা? যারা খুব লোক হাসাতে পারে, যারা কথায় কথায় জোক করতে পারে, যারা ফেসবুকে খুব মজা করতে পারে, যারা সারাদিন আমাদেরকে অর্থহীন কাজে ব্যস্ত রাখতে পারে। এরাই আমাদের পছন্দের ব্যক্তি, আর আল্লাহও এদের সাথেই আমাদের হাশরের ব্যবস্থা করে দিবেন।

আবু মূসা আশ’আরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হল – কোন ব্যক্তি যদি এক সম্প্রদায়কে ভালবাসে তাহলে সে তাদের সাথে কেন অবস্থান করবে না ? উত্তরে রাসূহুল্লাহ (সা.) বললেন – ‘ব্যক্তি তার সাথে থাকবে যাকে সে ভালবাসে।’ [বুখারী-৬১৭০ ও মুসলিম-২৬৪১]

অন্য এক বর্ণনায় আছে – বান্দা দুনিয়াতে যাকে ভালোবাসে তার হাশরও তার সাথেই হবে।

সহীহ বুখারীর এক হাদীসে এসেছে-

জান্নাতি ব্যক্তি জান্নাতে গিয়ে দুনিয়াতে তার বন্ধুদের খোঁজ করবে। সে অমুক অমুকের কথা আল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করবে। তাকে জানানো হবে অমুক তো তার কিছু গুনাহের কারণে আটকে গেছে, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

জান্নাতি ব্যক্তি তখন আল্লাহর কাছে আর্জি পেশ করবে তার বন্ধুকে সে মিস করছে, তাকে ছাড়া জন্নাতে তার ভালো লাগছে না। আল্লাহ তখন তার জান্নাতি বান্দার সম্মানে তার জাহান্নামী বন্ধুকে জান্নাতে দাখিল করবেন।

এই হাদিসটা বর্ণনা করার সময় হাসান আল বসরী (রহঃ) তার সাথীদের বলেন – তোমরা যদি জান্নাতে আমাকে দেখতে না পাও তবে আল্লাহর কাছে আমার খোঁজ করো!

উত্তম সাথী কে? যাকে দেখে জান্নাতের কথা মনে পড়ে। যার সাথে কিছুক্ষণ থাকলে খুব ভালো হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। যার আমল দেখলে খুব ঈর্ষা হয়। তার মত আমল করতে ইচ্ছে হয়। যার সাথে জান্নাতে একসাথে থাকতে ইচ্ছে হয়। যার উদাহরণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন আতর বিক্রেতার সাথে। সে আশেপাশে থাকলেও লাভ।

.

আবু মুসা আশআরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন – ‘সৎ ও অসৎ বন্ধুর উদাহরণ আতর বিক্রেতা ও কামারের ন্যায়। আতর বিক্রেতা হয়তো তোমাকে একটু আতর লাগিয়ে দেবে, অথবা তুমি তার কাছ থেকে আতর ক্রয় করবে, অথবা তুমি তার কাছে আতরের ঘ্রাণ পাবে। আর কামার হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে নয়তো তার কাছ থেকে খারাপ গন্ধ পাবে।’(বোখারি ও মুসলিম)

শুধু তাই নয়, কেয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা সাত শ্রেণীর ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়া দিবেন। এর এক শ্রেণী হলো যারা দুনিয়াতে একে অন্যের সাথে আল্লাহর জন্যই সম্পর্ক গড়েছে আর আল্লাহর জন্যই কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

আল্লাহ যেন আমাদের এমন বন্ধুদের সাথে রাখেন যারা জান্নাতে গিয়েও আমাদেরকে মিস করবে। মৃত্যুর পরও যাদের সিনা আমাদের সিনার সাথে লেগে থাকবে। যারা ইউমাল কিয়ামাহর কঠিন দিনে আমাদেরকে আল্লাহর আরশের ছায়ায় নিয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

সংগৃহীত (Rain Drops).

গুনাহ্ করতে করতে অন্তরটা এত বেশি শক্ত হয়ে যায় যে হারাম গুলোকে খুবই সাধারন ব্যাপার মনে হয়।

কেও উত্তম কাজের নসীহা করলে মনেহয় কি সব বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার কথা বলছে।

আমরা ইসলাম থেকে এত বেশি দূরে সরে গিয়েছি যে এটাকে এখন কঠিন মনেহয়, ঝামেলা মনেহয়।

আবার অনেকেই দ্বীনের পথে এসেও যেন খেয় হারিয়ে বসে।

বস্তুত হারামে লিপ্ত থেকে আপনি যতই ঈমানের স্বাদ আস্বাদনের চেষ্টা করবেন না কেন আপনি কখনোই তা খুজে পাবেন না।

দুনিয়ার সমস্ত স্বাদ মজা শেষ করে দিবে মৃত্যু। ক্রমাগত মৃত্যুর স্মরণ আপনার অন্তরকটাকে নরম করে দিবে।

আপনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন হারামে লিপ্ত আছেন, ছেড়ে দিন দেখবেন অন্তরটা খালি হয়ে গেছে,রাতের ঘুমটা ভাল হচ্ছে, সালাতে  মনোযোগ আসছে।

আল্লাহর জন্য ভালবাসাগুলোই থেকে যাবে বাকি সবগুলোই হারিয়ে যাবে।

আরো পড়ুন,

রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব

রমজান মাসের দোয়া এবং আমল সমূহ

রমজানের মাসআলা সমূহ

রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন

রমজানের সময় সূচি 2022

ইফতারের দোয়া এবং নিয়ত

রোজার নিয়ত

রোজার নিয়ত করা কি ফরজ

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ

Leave a Reply

19 + nine =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.