ডিজিটাল মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ঘরে বসে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন

  • Post author:
  • Post last modified:March 4, 2022
  • Reading time:19 mins read

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান সময়ের সবথেকে বেশী জনপ্রিয় একটি ক্যারিয়ার এবং ইনকামের মাধ্যম। সুযোগ-সুবিধা, কাজের চাহিদা এবং মানসম্মত ইনকামসহ কোনটিরই কোন কমতি নেই এই খাঁতে। বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ, তাই ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পাবে এটাই স্বাভাবিক।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজটি শিক্ষা যেমনটা সহজ ঠিক করাটাও তেমনি সহজতর। আর সঠিক ভাবে এই দক্ষতাটিকে কাজে লাগাতে পারলে এর থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকামও হয় আকাশ-চুম্ববি। তাই আমারা আজকের এই পর্বে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব। একজন সু-দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট হতে হলে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কমন কিছু প্রশ্ন নিচে দেয়া হল যেগুলো সম্পর্কে আমরা আজকে বিস্তারিত জানবো ইনশাআল্লাহ্‌! এগুলোর উত্তর হয়ত আপনি খুঁজছেন। সবগুল একসাথে পেয়ে যাবেন এখানে।

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কমন কিছু প্রশ্নঃ

  1. ডিজিটাল মার্কেটিং কি? 
  2. ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব কি?
  3. ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?
  4. ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবেন?
  5. ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করবেন?
  6. ডিজিটাল মার্কেটিং কি কি বিষয় নিয়ে গঠিত?
  7. ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে কি কি করা যাবে?
  8. ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা কি?
  9. ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স কোথায় করব?
  10. ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব?
  11. ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ কী?
  12. ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে?
  13. ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স মডিউল কেমণ হয়?
  14. ডিজিটাল মার্কেটিংএ আয় কেমন?
  15. মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যাবে কিনা?
  16. ডিজিটাল মার্কেটিং এ কিভাবে সফল হবেন?
  17. কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর আপডেট সম্পর্কে অবগত থাকবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং হল মার্কেটিংয়ের ডিজিটাল ভার্সন। মানে হচ্ছে বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যাবহার করে যে মার্কেটিং করা হয় তাই হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং।

আর সহজ করে বলতে গেলে বলা যায়- ইন্টারনেট এবং অনলাইন প্লাটফর্ম যেমনঃ ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল-সহ বিশ্বের সকল ডিজিটাল প্লাটফর্ম গুলকে ব্যাবহার করে যে মার্কেটিং করা হয় তাই হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। এটি অনলাইন মার্কেটিং এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং নামেও পরিচিত।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বঃ

করনা ভাইরাসের কারনে সারা-বিশ্বের এই বে-সামাল অবস্তাতেও অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছেই আর হতেই থাকবে। তাই নয় কি? আর অনলাইনে বেচা-কেনা মানেই ডিজিটাল প্লাটফর্ম ডিজিটাল মার্কেটিং।

মানুষ ঘরে বসে যা যা প্রয়োজন হচ্ছে শুধু অর্ডার করতেছে আর অন্যদিকে ডেলিভারি-বয় ফাঁকা রাস্তা পেয়ে হরদমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।

কথায় বলেনা যে “কার পোষমাস কার সর্বনাশ”  আর এ জন্যই বলছি ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব না বুঝে বা এটাকে গুরুত্ব না দিয়ে বর্তমানে বিসনেসে নামলে আপনার সর্বনাশ কেউ ঠেকাতে পারবেনা।

ইন্টারনেট মার্কেটিং কেন করবেন

বর্তমান সময়ে এসে আপনি যে বেপসাই করুননা কেন আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আওতায়েই করতে হবে। আপনি যদি একটু খেয়াল করে লক্ষ্য করেন তাহলেই বুঝবেন বর্তমানে যে বা যাঁহারাই বিসনেস করতেছে এবং সফল হচ্ছে তাঁদের আলমোস্ট ৯৯% মানুষেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সাথে জড়িত।

অফ-লাইন ভার্সন থেকে এখন সমস্থ বেপসা-বাণিজ্যই অনলাইন ভার্সনে রুপান্তরিত হচ্ছে। মানুষজন আপডেটেড হচ্ছে। তাঁদের জীবন যাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। সকলেই এখন অনলাইনে কিনাকাটায় অভস্ত হয়ে গেছে। সমস্ত বেপসা-বাণিজ্যর মূল হোতাই হল কাস্টমার আর কাস্টমাররা যখন অনলাইনে কেনাকাটায় অভস্ত তখন আপনি অফ-লাইনে বেপসা করে কিভাবে সফল হবেন?

যুগ পাল্টে গেছে। পরিস্থিতি বতলে গেছে। অতো এব, ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন বা এটা কেন করা প্রয়োজন তা আশা করছি বুজতে বাকি নেই।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবেন

আমরা একটি বিষয় যদি একটু খেয়াল করি তাহলেই দেখবো-যে বর্তমানে সমস্ত-কিছুই ডিজিটাল মিডিয়া ভিত্তিক বা ইন্টারনেট ভিত্তিক হয়ে গেছে।

আর আমরা এ-ও জানি যে প্রতিটা কোম্পানির জন্য মার্কেটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে যেহেতু সমস্থ কিছুই ডিজিটাল মিডিয়া ভিত্তিক হয়ে গেছে তাই, মার্কেটিংও বাদ নেই।

দেখুনঃ পুরো বিশ্বে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাপক ব্যবহার হলেও আমাদের দেশে এর তুলনামূলকভাবে ব্যাবহার কিছুটা কম।

অনেক ব্যবসায়ী ডিজিটাল মার্কেটিংকে তাদের ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনই মনে করেননা। অথচ ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োগ করলে সে অনেক নতুন কাস্টমার তৈরি করতে পারেন এবং প্রতিযোগীদের সাথে সহজেই প্রতিযোগিতা করতে পারতেন।

আবার অনেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে ফেসবুক এ মার্কেটিং করাকে বুঝি, ফেসবুক মার্কেটিং বলতে ফেসবুক এ অ্যাড (বুস্ট) দেয়াকে বুঝি, ফেসবুক এ অ্যাড দেয়া বলতে কত বেশি রিচ করানো যায় তা বুঝি! প্রথমত আমরা পুরো বিষয়টার দিকে নজর দিচ্ছি না আবার অন্য দিকে আমার বিষয়টাকে অন্য দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছি।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবেন:

বর্তমান সময়ে আপনি যে ব্যবসাই করেননা কেন এতে সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে একটা ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। কেননা মার্কেটিং হচ্ছে একটি ব্যবসায়ের সফলতার মেরুদন্ড, আর বর্তমান সময়ে মার্কেটিঙের ৯০ ভাগ সেক্টর দখল করে আছে ইন্টারনেট মার্কেটিং। কিছুদিন পরে হয়তো এটি শতভাগ হয়ে যাবে।

১. ভোক্তারা বেশি বেশি ডিজিটাল হচ্ছেঃ

সময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিটি পণ্যের ভোক্তার মাঝে অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। ভোক্তারা এখন কোন পণ্য কেনার আগে দেখতে চায় সেই পন্যটি কেমন? কি কি গুনাবলী রয়েছে? ভোক্তা সেই পণ্য গ্রহন করলে কি কি সুবিধা পাবে? অন্য আর কে এমন ধরণের সেবা প্রদান করে? তাদের সাথে এই পণ্যের পার্থক্য কি? তার পরিচিত কেউ একই পণ্য ব্যবহার করছে কিনা বা সাধারণ জনগন এই পণ্য ব্যবহার করে কি রিভিউ দিচ্ছে ইত্যাদি, এই বিষয়গুলো জানার জন্য ভোক্তা সহজেই ব্যবহার করে তার হাতের মোবাইলটি বা কম্পিউটারটি।

আগে একটা সময় ছিল, এই প্রশ্নগুলো ভোক্তা জানতে চাইলেও কম সময়ে সহজেই জানতে পারতেন না কিন্তু এখন গুগল বা ফেসবুক-এ সার্চ দেওয়ার মাধ্যমে দেখতে সহজেই পণ্যের ছবি, পণ্যের বৈশিষ্ট্য এবং পণ্য কোন কোম্পানী সরবরাহ করছে, ভোক্তা মতামত এবং আর অনেক উত্তর খুব সহজেই দেখতে পায় এবং যে সব পণ্য এর তথ্য সহজেই পেয়ে যায় এবং পজিটিভ রিভিউ দেখে সে সব পণ্য কিনতে সব চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়।

যেহেতু ভোক্তা পণ্য ক্রয় করার পূর্বে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে তাই আপনাকেও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করেই তার কাছে পৌছাতে হবে। আপনাকে ব্রান্ড এবং আপনার পণ্যকে গুগল, ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যেন তারা আপনার ব্রান্ড বা পণ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সহজেই খুজে পায়। তাহলে আপানর পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। আপনার ব্যবসায়ের উন্নয়ন হবে। ২০১৮ সালে ভোক্তারা রিভিউ এর দিকে আরো বেশি নজর দিবে, তাই এ বিষয়ের দিকে ভাবা জরুরী।

ডিজিটাল মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং

২. অল্প খরছে ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্রাটেজির প্রয়োগ করা যায়ঃ

প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতির সাথে ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব কম খরচে আপনি আপনার ব্যবসায়কে কাঙ্ক্ষিত কাস্টমারের কাছে পৌছাতে পারবেন। একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বা একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আপনার পণ্যকে লক্ষাধিক কাস্টমারের কাছে খুব সহজে পৌছাতে পারবেন যা প্রচলিত লোকাল মার্কেটিং পদ্ধিতে অনেক ব্যয়বহুল।

ফেসবুক অ্যাডের মাধ্যমে কয়েক ডলার খরচ করে আমাদের দেশে হাজার মানুষের কাছে পণ্য সম্পর্কিত তথ্য পৌছে দিচ্ছে বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানী। তাও আবার বয়স, পেশা, ইন্টারেস্ট ইত্যাদির মাধ্যমে টার্গেট করে সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌছানো যাচ্ছে। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে পৃথিবীর সকল ছোট বড় কোম্পানী গুলো। আপনি কেন আপনাকে গুটিয়ে রাখবেন।

৩. সহজেই ট্র্যাক করা যায়ঃ

মার্কেটিং করার সাথে সাথে মার্কেটিং এর রেজাল্ট ট্র্যাক করতে হয়। মার্কেটিং এর পদক্ষেপ কেমন হল? কতটুকু সফলতা পাওয়া গেল? পণ্য বা সার্ভিস কাস্টমারের কেমন লাগল? ইত্যাদি জানতে পারবেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর ট্র্যাকিং সিস্টেম এর মাধ্যমে।

আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ইন্টারনেট মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ন অংশ এসইও করেন তাহলে সহজেই ভিজিটর পাবেন এবং সেই ভিজিটরকে গুগল এনালাইটিকের মাধ্যমে ট্র্যাক করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার এসইও পদ্ধতিটি কত জন মানুষকে আপনার কাছে নিয়ে আসতে পেরেছে তা জানতে পারবেন এবং তার ফলাফল কি তা বুঝতে পারবেন।

তারপর মার্কেটিং এ কি পরিবর্তন দরকার? কি নতুন যোগ করা দকার তা বুঝতে পারবেন। কিন্তু প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে কতজন আপনার সম্পর্কে জানতে পারলো তা বুঝতে পারা যায় না।

যেমনঃ আপনি আপনার ব্যবসায়ের মার্কেটিং বিভিন্ন ব্যানার বা পোস্টার এর মাধ্যমে করলেন কিন্তু বলতে পারবেন না এই পোস্টার বা ব্যানার কত জন দেখল এবং কত জন আপনার সম্পর্কে জানলো। অথচ ডিজিটাল মার্কেটিং-এ প্রায় প্রতিটি দিক ট্র্যাক করা যায়। যদি আপনার মার্কেটিং স্ট্রেটেজিতে কোনরকম ভালো ফলাফল না আসে তাহলে সেই স্ট্রেটেজি খুব সহজেই পরিবর্তন করে ফেলতে পারবেন। এটি মার্কেটিং ব্যয়ও কমাবে।

৪. ট্রেন্ড গুলো সহজেই সনাক্ত করা যায়ঃ

মার্কেটিং এর জন্য ট্রেন্ড সবসময় গুরুত্বপূর্ন। ট্রেন্ড মার্কেটিং পদ্ধতিকে পরিবর্তন করে। কারণ মার্কেটিং সবসময় ট্রেন্ড অনুসারে হতে হয়। আবার ট্রেন্ডও সর্বদা পরিবর্তনশীল। তাই একজন মার্কেটারকে সর্বদা ট্রেন্ডের প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। ট্রেন্ড সনাক্ত বা ট্রেন্ড অনুসরন করার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম হল ডিজিটাল মাধ্যম। ডিজিটাল মার্কেটিং–এ সকল ট্রেন্ড সহজেই জানা যায় ও বুঝা যায়।

গুগল ট্রেন্ডে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে কোন ধরণের ট্রেন্ড গুলো চলছে তা দেখা যায়। মার্কেটিং পদ্ধতি তৈরির পূর্বে সেই ট্রেন্ড অনুসারে কৌশল তৈরি করা যায়।

৫. কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা অনেক সহজঃ

আমারা জানি কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা একটি ব্যবসায়ের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক সহজেই তৈরি করা যায় ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে। ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয় ওয়েবসাইট, ব্লগ, ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে যেখানে সরাসরি কাস্টমার তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে।

যার মাধ্যমে তাদের সাথে সহজে সম্পর্ক তৈরি হয়। তাদের পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে জানা যায় এবং তার উপর নির্ভর করে উদ্যোগ নেয়া যায় সহজেই। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এই দিক দিয়ে প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতি থেকে কার্যকরী।

৬. প্রতিযোগী ব্যবসায়ীঃ

আপনি কেন ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন এর সবচেয়ে সহজ উত্তর হল আপনার প্রতিযোগী ব্যবসায়ী ডিজিটাল মার্কেটিং করছে। আমাদের দেশে হোক বা আন্তর্জাতিক, ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োগ দেখতে পারবেন সকল ক্ষেত্রে। আজ আমাদের দেশের খুব ছোট একজন ব্যবসায়ী তার পণ্য ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রচার করছে।

লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে কাস্টমারকে পণ্য দেখাচ্ছে। ঠিক তেমনি বড় বড় কোম্পানীগুলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগ দিচ্ছে, ইন্টারনেট মার্কেটিং স্ট্রাটেজিস্ট এর পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করছে। আপনি কেন করবেন না? আপনি যদি ইন্টারনেট মার্কেটিং না করেন তাহলে কাস্টমারের একটি বড় অংশ আপনা পণ্য এবং ব্রান্ড সম্পর্কে জানতে পারবেন না। তখন এই সুযোগটি আপনার প্রতিযোগী গ্রহন করে নিবে।

এছাড়াও ডিজিটালি আপনার অবস্থানকে আরো শক্ত পোক্ত করতে ডিজিটাল মার্কেটিং এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশে এমন কোম্পানী খুজে পাওয়া কঠিন যারা ডিজিটাল মার্কেটিং করাচ্ছেন না।

তাই সঠিকভাবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রয়োগই বর্তমান ব্যাবসার একমাত্র সফল চাবিকাঠি। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে আপনার পুরো ক্যারিয়ার। তাই ২০২০ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে তার বাস্তব প্রয়োগ এবং ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে নিজের দখল এখন আর স্বপ্ন নয়। এখন আপনিয়েই বলুন, ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করবেন

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ২০টিরও বেশি ক্যাটাগরি রয়েছে। এই সকল ক্যাটাগরিতে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। এরপরে  ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হবে অথবা আপনার কোন নিজেস্ব বিসনেস থাকতে হবে যার জন্য আপনি ইন্টারনেট মার্কেটিং করতে পারবেন। অনলাইন প্লাটফর্মগুলকে কাজে লাগিয়ে আপনার কোম্পানির পণ্যগুলোকে খুব সহজেই মার্কেটিং করতে পারেন।

আপনি চাইলে একসাথে অনেকগুলো প্লাটফর্মে এক সাথে মার্কেটিংয়ের কাজ করতে পারেন আবার চাইলে শধু একটা প্লাটফর্ম নিয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু আপনার বেপসার গ্রথ বিদ্ধির জন্য আপনাকে অবশ্যই সকল প্লাটফর্মগুলকে কাজে লাগাতে হবে। প্রথমে আপনি একটি একটি করে শুরু করতে পারেন। যেমনঃ প্রথমে আপনি শুরু করলে সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং।

এখন কথা হচ্ছে, এই সোসাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মাঝে রয়েছে আবার অনেকগুল ক্যাটাগরি- যেমনঃ ফেসবুক মার্কেটিং, টুইটার মার্কেটিং, ইন্সতাগ্রাম মার্কেটিং, পিন্তারেস্ত লিঙ্কেদিন সহ আর অনেক কিছু। এখন আপনি চাইলে প্রথমে শুধু ফেসবুক মার্কেটিং দিয়ে শুরু করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে হাজার হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে শুধু মাত্র ফেসবুককে ব্যাবহার করে ঘরে বসেই বেপসা করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতেছে।

ফেসবুক মার্কেটিং অনলাইন মার্কেটিংয়ের অনেক বড় একটা অংশ। এটি আপনি ভালভাবে আয়ত্ত করতে পারলে অনলাইনে বেপসা করা আপনার জন্য ডাল-ভাতের মত সহজ হয়ে যাবে। শুধু ফেসবুকেই নয়, একই ভাবে ফেসবুক মার্কেটিংসহ অনলাইন মার্কেটিংয়ের অন্য সকল ক্যাটাগরিতে আপনাকে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। তাহলেই আপনি বায়ারের জন্য হোক বা নিজের জন্যই হোক- দক্ষতার সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে কাজ করতে পারবেন।

ইন্টারনেট মার্কেটিং কি কি বিষয় নিয়ে গঠিত

আমরা আগেই বলেছি যে, ডিজিটাল মার্কেটিং অনেকগুল বিষয়ের সমন্নয়ে গঠিত। আসলে বর্তমান সময় ইন্টারনেট দুনিয়াটা অনেক বড়। এই ইন্টারনেটের সাথে জড়িতো রয়েছে লক্ষ লক্ষ রকমের ওয়েবসাই। বিভিন্ন প্রকারের ওয়েবসাইটের জন্য মার্কেটিংয়ের ধরনেও রয়েছি পরিবর্তন।

যেমনঃ সার্চ ইঞ্জিন টাইপের ওয়েবসাইটের জন্য আমারা যে মার্কেটিংয়ের অপ্তিমাইযের (ফ্রী মার্কেটিং) কাজটি করব সেটিকে বলা হয় এস,ই,ও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্তিমাইযসন।

আবার সার্চ ইঞ্জিন টাইপের ওয়েবসাইটে আমরা টাকা দিয়ে যে মার্কেটিংয়ের কাজ করব সেটিকে বলা হয় এস,ই,এম বা সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। তেমনিভাবে আমারা সোসাল মিডিয়া টাইপের ওয়েবসাইট যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার, ইন্সত্রাগ্রাম, লিঙ্কেদিন এতাদ্দির মাধ্যমে যে মার্কেটিং করব তাকে বলা হয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।

এইভাবে এগুলোর উপরে ভিত্তি করে আমি ডিজিটাল মার্কেটিংটিকে ২০টি মৌলিক ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি। এগুলো নিম্নে দেয়া হলঃ-

  1. এস,ই,ও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  2. এস,ই,এম বা সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং
  3. এস,এম,ও বা সোসাল মিডিয়া অপটিমাইজেশন
  4. এস,এম,এম বা সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং
  5. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  6. সি,পি,এ – সি,পি,এল মার্কেটিং
  7. ইমেইল মার্কেটিং
  8. ইনফ্লুঞ্চের মার্কেটিং
  9. কন্টেন্ট মার্কেটিং
  10. মার্কেটিং স্ট্রাটেজি
  11. ব্র্যান্ডইং/ রেপুটেশণ মার্কেটিং
  12. ওয়েবসাইট ডিজাইন (ওয়ার্ড প্রেস) 
  13. গ্রাফিস ডিজাইন (কেনভা)
  14. চ্যাটবট মার্কেটিং
  15. ইনস্ট্যান্ট মেসেজ মার্কেটিং
  16. ক্যাম্পেইন মার্কেটিং (PPC)
  17. ইউটিউব মার্কেটিং
  18. এ-বি টেস্টিং / সার্ভে
  19. ই-কমার্স মার্কেটিং
  20. লিড জেনারেশন
  21. কন্টেন্ট অটোমেশন  ইত্যাদি।

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে কি কি করা যাবে

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে কি কি করা যাবে- এ বিষয় নিয়ে বললে অনেক কিছুই বলা যেতে পারে। কেননা বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে খুবই ডিমান্ডেবল একটি ক্যারিয়ার অপরচুনিটি। তারপরেও, ইন্টারনেট মার্কেটিং শিখে যা যা করতে পারবেন তা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করছি। 

১: ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং খুবই জনপ্রিয় একটি আয়ের মাধ্যম। বাংলাদেশে-সহ বিশ্বের কোটি কোটি তরুণ-তরুণী এই কাজের সাথে জড়িত। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে তারা কোটি কোটি ডলার ইনকাম করছে প্রতিনিয়ত। যারা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে তাদের বলা হয় ফ্রীলান্সার। আর যেখানে এই কাজ পাওয়া যায় তাকে বলে ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। বর্তমানে ফাইবার আপওয়ার্ক-সহ  আরো অনেক ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস রয়েছে। যেখানে আপনিও আপনার ইন্টারনেট মার্কেটিং সার্ভিস দিয়ে খুব ভালো পরিমাণ ইনকাম করতে পারেন।

২:  ইউটিউবিং বা ব্লগিং

বর্তমান ইন্টারনেট জগতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে গুগোল। তাই গুগোল হয়ে উঠছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ক্যারিয়ার। গুগল অ্যাডসেন্সের কথা কারো অজানা নয় আপনার ওয়েবসাইট হোক বা ব্লগার ব্লগ হোক কন্টেন্ট ভাল হলে আপনাকে আয়ের সুযোগ দেবে গুগোল। তেমনই ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আপনিও হতে পারেন হাজারো ইউটিউবারের মত একজন সফল ইউটিউবার। এবং আপনিও আয় করতে পারেন ইউটিউব থেকে মাসে 500$ ডলার থেকে 5000$ ডলার।

৩:  অনলাইনে নিজস্ব ব্যবসা

What is Online Business?

অনলাইন ব্যবসা হল যে সকল ব্যবসা ঘরে বসে ভার্চুয়াল ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেগুলো হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা। অর্থাৎ যে সকল ব্যবসা একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ এবং সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব সেগুলি হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা।

আমি আরো সহজ করে বলছি, মনে করুন আপনার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানে আপনি গ্যাস সিলিন্ডার রেখে কাস্টমারদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব করেছেন। এবং কোন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাকে গ্যাস সিলিন্ডারের অর্ডার করলে আপনি সেই সিলিন্ডারটি তার বাসায় পৌঁছে দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় যে ব্যবসা পরিচালনা হয় সেটি হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা।

বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রযুক্তির উন্নয়ন হওয়ার সাথে সাথে ইন্টারনেট জগৎটাও পৌঁছে গেছে অনেক শীর্ষে। কেনাকাটা, বিভিন্ন সেবা থেকে শুরু করে অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) করা যাচ্ছে বিভিন্ন সেক্টরে। বর্তমানে অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন খুব অল্প সময়েই। আবার অনেকেই অনলাইন ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছেন।

৪:  এফিলিয়েট কমিশন

এফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইনে ইনকাম করার এক আধুনিক ও লাভজনক পদ্ধতি। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে Bloggers এবং YouTubers রা বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্টস তাদের নিজের প্লাটফর্মে প্রচার করে। এবং তখন যদি কোনো ক্রেতা তার এফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে গিয়ে পণ্য বা সার্ভিস কিনে থাকে, বিনিময়য়ে তখন সে কোম্পানি থেকে কমিশন পাবে, এই কমিশনের মাধমে আয় করাই হলো এফিলিয়েট ইনকাম বা অ্যাফিলিয়েশন করা।

অনুরূপভাবে যখন কোন কোম্পানি তাঁদের ব্যবসায়ে বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করে এবং মার্কেটিং বা প্রচার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগার এবং ইউটিউবারদের ব্যাবহার করে এবং বিনিময়য়ে তাদেরকে একটা কমিশন প্রদান করে এটাকেই বলে এফিলিয়েট মার্কেটিং।

৫: সরাসরি দেশি বা বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে আপনি চাইলে দেশ বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে সরাসরি চাকরি করতে পারবেন। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্যই একজন করে ডিজিটাল মার্কেটারের প্রয়োজন হচ্ছে। বিভিন্ন জব সাইটে প্রতিনিয়ত ডিজিটাল মার্কেটারের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে। তাই বর্তমানে আপনি যদি একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট হতে পারেন তাহলে এই সেক্টরে বিভিন্ন কোম্পানিতে সরাসরি চাকরি পাবার সম্ভাবনা শতভাগ সুনিশ্চিত।

৬: নিজস্ব মার্কেটিং এজেন্সী/কোম্পানি ইত্যাদি

আপনি যখন অনলাইন মার্কেটিং এর সবগুলো বিষয়ে অত্যান্ত দক্ষ হয়ে উঠবেন তখন মার্কেটপ্লেস এর উপরে নির্ভরশীল না থেকে আপনি চাইলে নিজেস্ব মার্কেটিং এজেন্সী চালু করতে পারবেন। যেখান থেকে আপনি আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা কি

ডিজিটাল মার্কেটিং প্রধান সুবিধা হল একটি লক্ষ্যযুক্ত দর্শকদের কাছে একটি সাশ্রয়ী এবং পরিমাপযোগ্য উপায়ে পৌঁছানো যায়। অন্যান্য ডিজিটাল মার্কেটিং সুবিধার মধ্যে রয়েছে ব্র্যান্ডের আনুগত্য বৃদ্ধি এবং অনলাইন বিক্রয় বৃদ্ধি করা। এছাড়া রয়েছে,

  • টার্গেটেড দর্শক-
  • বিশ্বব্যাপীতা-
  • কম খরচ –
  • ট্র্যাকযোগ্য-
  • পরিমাপযোগ্য-
  • ব্যক্তিগতকরণ –
  • উন্মুক্ততা –
  • উন্নত রূপান্তর হার –

ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স কোথায় করব

অনলাইন মার্কেটিং এর চাহিদা যেহেতু এত বেশি, তাই এই সুযুগটিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে হাজার অসাদু মানুষ “অনলাইন মার্কেটিং” শিখানোর নাম নতুনদের সাথে নিয়মিত প্রতারণা করে যাচ্ছে। এদের কাছ থেকে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকেই। তাহলে আপনি কিভাবে সুন্দরভাবে পরিপূর্ণ ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারেন? হুম এ বিষয়ে জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে এই সম্পূর্ণটি– 

আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চান তবে এটি আপনার জন্য সত্যিই একটি দুর্দান্ত পছন্দ। আপনাকে স্বাগতম! কিন্তু প্রশ্ন হল “ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স কোথায় করবেন?” আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে বর্তমানে প্রচুর ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ রয়েছে। দক্ষ হোক বা না হোক তারা সবাই ইন্টারনেট মার্কেটিং এর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। একজন নবাগতের পক্ষে কোন প্রতিষ্ঠানটি তার জন্য ভাল হবে তা বোঝা খুব কঠিন। এই কারণে, এখানে আপনার জন্য কিছু পরামর্শ দিচ্ছি। আমি আশা করি আপনি যদি এই তিনটি পয়েন্ট অনুসরণ করেন তবে আপনি সনাক্ত করতে সক্ষম হবেন যে কোন প্রতিষ্ঠান আপনার জন্য ভাল হবে।

প্রথম পয়েন্ট: ভর্তি হওয়ার আগে আপনার পরামর্শদাতা/প্রশিক্ষক সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। আপনার পরামর্শদাতা কে, ডিজিটাল বিপণন শিল্পে তার দক্ষতা কী এবং তিনি ইতিমধ্যেই কী কী কাজ করেছেন এবং আরও কিছু। আপনি যখন আপনার পরামর্শদাতার সম্পর্কে এই জিনিসগুলি জানবেন, তখন আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার তার কাছ থেকে শেখা উচিত কি না।

এর জন্য, আপনি আপনার পরামর্শদাতার নাম দিয়ে গুগলে অনুসন্ধান করতে পারেন। কারণ গুগল সার্চ করে একজন ডিজিটাল মার্কেটারকে খুব সহজেই পাওয়া যাবে। লাইক আপনি যদি আমার সম্পর্কে গুগলে সার্চ করেন তাহলে গুগলে আমার নাম “মার্কেটার রাশেদ” লিখে সার্চ করুন। তাহলে আপনি আমার সম্পর্কে সবকিছু পাবেন। এটি একটি ডিজিটাল মার্কেটার এবং এসইও বিশেষজ্ঞের জন্য একটি মূল এবং খুব ব্যবহারিক দক্ষতা।

আপনি যদি গুগলে “বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট” লিখে সার্চ করেন, তাহলে আপনি আমাকে প্রথমে পাবেন। হ্যাঁ, 4000 মিলিয়নেরও বেশি ফলাফলে আপনি আমাকে প্রথমে খুঁজে পাবেন। বিশ্বাস করতে পারছেন না? শুধু অএকবার অনুসন্ধান করুন এবং ফলাফল দেখুন। আমি আশা করি আপনি আমাকে দেখতে পাবেন! আমি এখানে আমার প্রচারের জন্য এটি বলছি না।

আমি শুধু আপনি একটি বাস্তব পরামর্শদাতা খুঁজে পেতে চান তাই বলছি। শুধু মনে রাখবেন, একজন ভালো পরামর্শদাতা আপনাকে আপনার সাফল্য পেতে সাহায্য করতে পারে। সেজন্য আমি বিনীতভাবে পরামর্শ দিচ্ছি যে আপনি ভর্তি হওয়ার আগে আপনার পরামর্শদাতা সম্পর্কে খুব ভালভাবে জানেন।

দ্বিতীয় পয়েন্ট: আপনি ভর্তি হওয়ার আগে কোর্স মডিউল এবং অন্যান্য সুবিধাগুলি সম্পর্কে খুব ভালভাবে জেনে নিন। ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে 20টিরও বেশি বিষয় রয়েছে। একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হওয়ার জন্য আপনাকে এই সব জিনিস শিখতে হবে। এই জন্য, নিশ্চিত করুন যে আপনি যেখান থেকে শিখবেন তারা আপনাকে সবকিছু শিখিয়ে দেবে।

এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সকে মাল্টি-কোর্স শিক্ষায় পরিণত করে মানে প্রায় ৯৫% প্রতিষ্ঠানেই অনলাইন মার্কেটিং কোর্সটিকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ৫-১০ টা কোর্স বানিয়ে শিক্ষায়। যেমন: এস.এই.ও কোর্স, ফেইসবুক মার্কেটিং কোর্স, ইউটিউব মার্কেটিং কোর্স ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং প্রতিটি কোর্সের জন্য আলাদাভাবে চার্জ নেয়। অথচ এ-সবগুলো মিলিয়েই ইন্টারনেট মার্কেটিং কোর্স। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে আপনাকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে।

কোর্স শেষ হওয়ার পরে তারা আপনাকে সাহায্য করবে কিনা তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই আপনাকে এটিও জানতে হবে। আপনি যখন কর্মস্থলে যাবেন তখন আপনি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবেন, তাই আপনার অনেক সাহায্যকারী এবং লাইভ সাপোর্টের প্রয়োজন হবে।

সুতরাং, সমর্থনের ক্ষেত্রে তারা কতদূর এসেছে তা খুঁজে বের করুন। এবং তাদের কোর্সের ল্যান্ডিং পৃষ্ঠায় গিয়ে তাদের অন্যান্য সুবিধা কী তা খুঁজে বের করুন। “ডিজিটাল মার্কেটিং মাস্টারমাইন্ড” এটি আমাদের কোর্সের ল্যান্ডিং পেজ এবং আপনি যদি এই পেজটি ভিজিট করেন তাহলে আপনি আমাদের কোর্স সম্পর্কে সবকিছু জানতে পারবেন।

তৃতীয় পয়েন্ট: একটি লাইভ ক্লাস ট্রেনিং কোর্সে যোগদান করতে হবে এবং কখনই কোনো ধরনের ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্স কিনবেন না। বাংলাদেশে অনেক ইন্টারনেট মার্কেটিং প্রশিক্ষক আছেন যারা শুধুমাত্র ভিডিও টিউটোরিয়াল প্রদান করেন। আপনাকে সবসময় তাদের উপেক্ষা করা উচিত।

যেহেতু এই ধরণের ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্সে লাইভ সাপোর্ট দেওয়া হয় না, তারা আপনাকে সর্বদা লাইভ সাপোর্ট দিবে বলবে, কিন্তু তারা এটা করবেন না, এটি প্রমাণিত! যাইহোক, এখানে আপনার জন্য কিছু ভাল খবর আছে। আমাদের একটি ইন্টারনেট মার্কেটিং সাপোর্ট ফোরাম আছে এবং যে কেউ আমাদের ফোরাম থেকে সহায়তা নিতে পারে। এটা বিশেষ করে বাংলাদেশী ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য। আপনি উপরের মেনুতে এটি পাবেন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব

বর্তমানে ইন্টারনেটে পাওয়া যায়না এমন কিছু নেই বল্লেই চলে। তাই এই পোস্টটিতে ইন্টারনেট থেকে কিভাবে অনলাইন মার্কেটিং শিক্ষা যায় তা নিয়েই বেশি আলোচনা করা হবে।

বর্তমান সময়ে অনলাইনে শিক্ষা বাবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। ছাত্রছাত্রিরা নিয়মিত অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে নিচ্ছে।

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ শিক্ষার তুমুল জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অনলাইন থেকে কয়েকটি উপায়ে আপনি চাইলে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারেন। সেরা ১০ টি উপায়ে অনলাইন থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং শিক্ষা যায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব
ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব

অনলাইন মার্কেটিং কিভাবে শিখব? (কার্যকরী ১০টি উপায়)

  1. সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।
  2. অনলাইনে ব্লগ পড়ার দ্বারা।
  3. ইউটিউব ভিডিও দেখে।
  4. সরাসরি গুগল থেকে।
  5. ফ্রি কোর্স করার মাধ্যমে।
  6. প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিয়ে।
  7. প্রশ্নোত্তর সাইটের মাধ্যমে।
  8. অনলাইনে বই পড়ে।
  9. পি,ডি,এফ ফাইল পড়ে।
  10. ওয়েবিনারে জয়েন করে।

ফ্রিতে ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব?

ইউটিউবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের উপরে আমার মানসম্মত কিছু ভিডিও দেয়া আছে। একজন সুদক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হতে হলে আপনাকে অবসই ভিডিও গুলো দেখতে হবে। তাই আর দেরি না করে এই লিংকে ( Free Digital Marketing Course in Bangladesh ) ভিসিট করে ভিডিও গুলো দেখে ফেলুন এখুনি।

উপরে ডিজিটাল মার্কেটিং শিক্ষার কয়েকটি পদ্ধতি কথা বলা হয়েছে। আপনি চাইলে এর যেকোনোটি এপ্লাই করে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারেন। আবার চাইলে সব গুলো একসাথে কম্বিনেশন করেও শিখতে পারেন। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন। আমি উত্তর দেব ইনশাআল্লাহ!

অনলাইন মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে?

এক কথায় বলা যায়, ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার কোন শেষ নেই। ইন্টারনেট মার্কেটিং একটি পরিবর্তনশীল ইন্ডাস্ট্রি। এই সেক্টরের সবকিছুই নিয়মিত আপডেট হয়। তাই একবার কোনো একটি কোর্স শেষ করলেই যে আপনার শিক্ষা শেষ হয়ে গেছে এমনটা ভাবা বোকামি হবে। তবে এই মুহূর্তে ইন্টারনেট মার্কেটিং এর পপুলার ২০ টি পার্ট রয়েছে যা উপরে মেনশন করা হয়েছে। এই ২০ টি পার্ট একাধারে শেষ করতে হলে আপনাকে মিনিমাম ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় দিতে হবে। তবে মনে রাখবেন, আপনার নিজে নিজে শিখে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যেতেই হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স মডিউল

অনেকেই জানতে চান যে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স মডিউল বা সিলেবাস কেমণ হয়? এটা আসলে বলা একটু মুশকিল। কেননা এটার আসলে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। যিনি যেভাবে শিখান তিনি সেভাবেই কোর্সের সিলেবাস তৈরি করে নেন। আবার অনেকে এক একটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে কোর্স মডিউল তৈরী করেন।

যেমন এখানে আমি আমার একটি বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সের জন্য সিলেবাসে তৈরী করেছিলাম তা দেখাচ্ছি।

বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স মডিউল

কোর্সের শুরুতেই ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কিছু আলোচনা থাকবে৷

The Concept Of Marketing
Main Purpose Of Marketing
Types Of Marketing Channels
Concept Of Offline Marketing
Why Not Offline Marketing?
What Is Digital Marketing?
Online Vs Offline Marketing
The Benefit Of Digital Marketing
Disadvantages of Digital Marketing
Components Of Digital Marketing
Materials Of Digital Marketing
Digital Lifestyle In Bangladesh
A Career In Digital Marketing
Consumer Behavior In Digital Marketing
Influence Customers by Digital Marketing
Digital Marketing Landscape
Why Failure In Digital Marketing
Mistakes In Digital Marketing
Transforming Into A Digital World
How To Building Your Digital Presence
How Will Digital Marketing Change Future
The 7PS Of The Marketing Mix
About Digital Marketing MasterMind
Others
মার্কেটিং এর ধারণা
মার্কেটিং এর প্রধান উদ্দেশ্য
মার্কেটিং চ্যানেলের ধরন
অফলাইন মার্কেটিং এর ধারণা
অফলাইন মার্কেটিং কেন নয়?
ডিজিটাল মার্কেটিং কি?
অনলাইন বনাম অফলাইন মার্কেটিং
অনলাইন মার্কেটিং এর সুবিধা
ডিজিটাল মার্কেটিং এর অসুবিধা
অনলাইন মার্কেটিং এর উপাদান
ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপকরণ
বাংলাদেশে ডিজিটাল লাইফস্টাইল
ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার
অনলাইন মার্কেটিংয়ে ভোক্তা আচরণ
ডিজিটাল মার্কেটিং দ্বারা গ্রাহকদের প্রভাবিত করুন
ডিজিটাল মার্কেটিং ল্যান্ডস্কেপ
অনলাইন মার্কেটিং এ ব্যর্থতা কেন
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ভুল
ইন্টারনেট বিশ্বে রূপান্তরিত হচ্ছে
কিভাবে আপনার ডিজিটাল উপস্থিতি গড়ে তুলবেন
ইন্টারনেট মার্কেটিং কিভাবে ভবিষ্যত পরিবর্তন করবে
মার্কেটিং মিক্সের 7PSঅন্যান্য
বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স মডিউল

অনলাইন মার্কেটিংএ আয় কেমন?

ডিজিটাল মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায় এই বিষয়টি আসলে ওই ভাবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারার মতো নয়। আমার আগেই বলেছি বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখে ইন্টারনেট মার্কেটিং করা যায়। Like- SEO, SEM, SMM, PPC etc. একেক ধরণের কাজের মূল্য একেক ধরণের হয়ে থাকে।

ধরুন কেউ একজন আর্টিকেল রাইটিং নিয়ে অনলাইন মার্কেটিং করে। অপরদিকে অন্য একজন যিনি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে অনলাইন মার্কেটিং করে। তাহলে তুলুনামূলক ভাবেই যিনি ইঞ্জেনিয়ার তিনি আর্টিকেল রাইটার এর থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা ইনকাম করে থাকেন।

কোন মার্কেটার আপনাকে এক্সাক্ট ভ্যালু বলবে না।  তবে আপনি কাজ জানলে এবং ধৈর্য্য ধরতে পারলে 1লাখ আশা করতে পারেন। এটা শুধু এক্সপার্ট লেভেল এর জন্য বললাম। যারা এর চেয়ে বেশিও করতে পারে।

টাকা উপার্জনের Lower Limit আছে কিন্তু কোন Upper Limit নাই। ইন্টারনেট মার্কেটিং করে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ মানুষজন লক্ষ লক্ষ টাকা কামাচ্ছে এটা যেমন সত্যি তেমনি অনেকে এক ডলারও কামাতে পারছেনা, এটাও সত্যি। আপনার পেশাগত এবং যোগাযোগের দক্ষতা এখানে খুবই বড় একটা ফ্যাক্টর।

আমি মাসে এত লক্ষ টাকা উপার্জন করছি, এটা কেউই এসে আপনাকে বলবেনা। যারা একা কাজ করে, তাদের ইনকামের পরিমাণ নির্ভর করে কত সময় কাজ করতে পেরেছে তার উপর। অনেকে দলগত কাজ করে, তাদের ইনকামও বেশী হয়ে থাকে।

প্রতিটা কাজেই শুরুতে বেতন বা আয় কম থাকে। আস্তে আস্তে যত দিন যায়, তত অভিজ্ঞতা বাড়ে এবং আয়ের পরিমাণও বাড়ে। ইন্টারনেট মার্কেটিংটাও এমন। শুরুতে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়। শুরুর দিকে আয়ের পরিমাণ কম থাকে। অভিজ্ঞতা হলে তখন কাজের পরিমাণ বাড়ে এবং সেই সাথে আয়ের পরিমাণও বাড়ে।

শুরুতে আপনি হয়ত মাসে ১০০$ – ১৫০$ পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। আস্তে আস্তে এর পরিমাণ বাড়বে। আপনি কতটুকু সময় দিলেন তার উপর আপনার আয় নির্ভর করবে। সময় দিলে মাসে ৭০-৮০ হাজার অনায়াসে পাওয়া যায়। অনেকেই এমন আছেন যারা অন্য পেশায় ছিলেন এবং এখন আগের চাকরি ছেড়ে ইন্টারনেট মার্কেটিং/ফ্রিল্যান্সিং পেশায় চলে এসেছেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, আগের চেয়ে বেশি আয় করতে পারে বলেই তারা এ পেশায় আসছেন।

মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং

সাবধান: অমুক এপপ্স দিয়ে আয় করুন তমুক সাইটে ক্লিক করে ভিডিও দেখেই আয় করুন এমন কোনো কিছুই বলবনা আমি কারণ এগুলো সম্পূর্ণ স্প্যাম। আগেই বলেছি ফ্রিল্যান্সিং এর এমন কিছু কিছু প্রফেশনাল কাজ রয়েছে যা মোবাইল দিয়েই করা যায়।

আমি কোরার মাধ্যমে একটা বিষয় লক্ষ করছিলাম এবং প্রশ্নটি পেয়েছি, “আমি কি শুধু আমার স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারি? কিভাবে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়?” এবং কিছু অন্যান্য অনুরূপ প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরগুলি ঠিক সহায়ক ছিল না, বেশিরভাগ লোকেরা তাদের প্রতারণামূলক স্কিমগুলি বিক্রি করার চেষ্টা করে এবং কেউ কেউ দাবি করে যে এটি অসম্ভব।

মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং
মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং

যে ব্যক্তি একটি স্মার্টফোন দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে বেশ সৌভাগ্য অর্জন করেছেন, আমি মনে করি এটি কীভাবে করা যায় তা লোকেদের জানানোর জন্য যথেষ্ট হবে। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা তাদের অনলাই ক্যারিয়ারের প্রথম সফলতাটা অর্জন করেছেন মোবাইলের মাধ্যমে কাজ করে।

প্রথমত, আমি এটা পরিষ্কার করতে চাই যে একটি পিসির মালিকানা নিঃসন্দেহে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করার সেরা উপায়। কিন্তু আপনি যদি এখনও একটি পিসি বিল্ড না করতে পারেন তাহলে কি হবে?

চিন্তা করবেন না। আপনার দক্ষতা দিয়ে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন এমন অনেক উপায় রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ আপনি আপনার স্মার্টফোন দিয়ে করতে পারেন। এমন কিছু কাজ নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো:

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর কাজ:

এটি ব্যবহারিকভাবে সবচেয়ে সহজ ফ্রিল্যান্সিং কাজ যা আপনি আপনার স্মার্টফোন দিয়ে করতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে আপনার কাজ হল লোকেদের (ব্যক্তি এবং সংস্থা) তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পৃষ্ঠাগুলি পরিচালনা করতে, আরও ভাল সামগ্রী তৈরি করতে এবং তাদের গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করতে সহায়তা করা৷

আপনাকে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বুদ্ধিমান হতে হবে এবং জানতে হবে কিভাবে ফলোয়ার বাড়াতে, নাগাল বাড়াতে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যস্ততা বাড়াতে সাহায্য করতে হয়।

লেখক বা আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ:

আপনি আপনার মোবাইল ফোন দিয়ে ক্লায়েন্টদের জন্য নিবন্ধ, ব্লগ পোস্ট, ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু, ইবুক ইত্যাদি লিখতে পারেন। আপনার যা দরকার তা হল একজন মহান গল্পকার, দ্রুত টাইপিস্ট এবং লিখতে কয়েকটি অ্যাপ।

সবচেয়ে ভালো দিক হল এই অ্যাপগুলির বেশিরভাগই বিনামূল্যে এবং Google Playstore এবং Apple Store থেকে ফ্রিতে পেয়ে যাবেন।

ফ্রিল্যান্স লেখক হিসাবে আপনার যাত্রা শুরু করার জন্য এখানে কিছু দুর্দান্ত লেখার অ্যাপ রয়েছে: Google ডক্স, WPS অফিস, মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট/সহকারীর কাজ:

ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে, আপনার কাজ হল প্রফেশনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ, প্রযুক্তিগত বা সৃজনশীল (সামাজিক) সহায়তা প্রদান করা। এর মধ্যে ফোন কলের উত্তর দেওয়া এবং ফোন করা, ইমেল পাঠানো, সামাজিক মিডিয়া ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি পরিচালনা করা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

মূলত এই সমস্ত কাজ একটি মোবাইল ফোন দিয়ে অনায়াসেই করা যায়। সুতরাং, আপনি আপনিও করতে পারবেন শুধু লেগে থাকুন।

ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করুন:

আপনি যদি ই-কমার্সে আগ্রহী হন তবে শিপিং কিন্তু স্টোর পরিচালনার চাপের মধ্য দিয়ে যেতে চান না, তবে এটি একটি ভালো বিকল্প আপনার জন্য। আপনি Etsy, Shopify, Shutterstock বা Squarespace-এ একটি অনলাইন স্টোর তৈরি করতে পারেন। যেখানে আপনি শুধুমাত্র ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

আপনি অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন এমন কিছু ডিজিটাল পণ্যর মধ্যে রয়েছে:

কাস্টম চিত্র: ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সার এবং অন্যান্য ডিজাইনারদের দ্বারা ব্যবহার করা যেতে পারে এমন চিত্র বা ডিজাইন তৈরি করুন তারপর সেগুলি Shutterstock বা Adobe Stock এ বিক্রি করুন৷

ছবি: আপনার আশেপাশের, বস্তু বা এমনকি নিজের থেকে উচ্চমানের ছবি তুলুন এবং সেগুলি Shutterstock বা Adobe Stock এ বিক্রি করুন৷

ফর্ম: আপনি কি বিক্রি করবেন সে সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকলে, আপনি Formplus-এ ফর্ম তৈরি করতে পারেন, ডাউনলোড করতে পারেন এবং Etsy-তে সেগুলি বিক্রি করতে পারেন। এছাড়াও আপনি লোকেদের অনলাইন সমীক্ষা তৈরি করতে, ডেটা সংগ্রহ করতে এবং ফর্মপ্লাসে তাদের বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করতে পারেন।

ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করা:

YouTube SEO
ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি

বর্তমানে ইউটিউবিং খুবই জনপ্রিয় একটি আয়ের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা যেন পান্তাভাতে ঘি হয়ে গেছে। তবে এই কাজটা মোটেও কোনো সহজ বিষয় নয়। এর জন্য আপনাকে অনেক সময় এবং পরিশ্রম দিতে হবে। আপনি চাইলে মোবাইল দিয়েই ইউটিউবের জন্য ভিডিও তৈরী করতে পারেন এবং তা নিয়মিত আপলোড করার মাধ্যমে আপনার ইউটিবিং যাত্রা  শুরু করতে পারেন। এটি একটি প্রোফেশনাল কাজ তাই ইউটিউবে এই বিষয় নিয়ে প্রচুর ভিডিও দেখে আপনাকে কাজটাকে ভালোভাবে শিখে নিতে হবে।

কিভাবে খুব সহজেই অনলাইন মার্কেটিং এর সকল আপডেট গুলো সম্পর্কে সবসময় অবগত থাকবেন?

অনলাইনে বেশিরভাগ ব্লগ ইংরেজিতে। তাই আপনি যদি ভালো ইংরেজি জানেন তাহলে খুব সহজেই অনলাইন থেকে ইন্টারনেট মার্কেটিং শিখতে পারবেন। ওয়ার্ল্ডে অনেক বড় বড় ডিজিটাল মার্কেটার রয়েছে- যারা ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে নিয়মিত তাদের ওয়েবসাইটে লিখালিখি করছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিনিয়ত একটা পরিবর্তনশীল বিষয়। সবথেকে মজার ব্যাপার হল আপনি ওয়ার্ল্ডের এই সকল মার্কেটারদের অনুসরন করলে সবসময় ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সকল পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন। কারণ তারা তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আপডেট নিয়ে তাদের ব্লগে লিখা লিখি করে।

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে সর্বশেষ কথা:

এত্ত সময় এই সুদীর্ঘ পোস্টিতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রায় সকল দিক নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। এর পরেও যদি আপনার কোনো কিছু বুঝার বাকি থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন। আর বিশেষ করে আমাদের ডিজিটাল মার্কেটিং সাপোর্ট ফোরাম টিতে নিয়মিত ভিজিট করুন আর আপনার যেকোনো প্রশ্নর উত্তর জেনে নিন। ধন্যবাদ সবাইকে!

Others Important Map For Marketers

ToolKit:

Important Post:

Bangla Post:

Marketer Rashed

This Is Marketer Rashed! A Digital Marketing Expert With Over 6+ Years of Experience On Digital Marketing. CEO & Founder at "Digital Marketing MasterMind" and Madaripur Outsourcing Institute.

This Post Has One Comment

  1. MD Sakibul Ahmed

    সত্যি অনেক গুরুত্বপূর্ন

Leave a Reply

four × 1 =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.