রোজা
রোজা

রোজা নিয়ে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন এবং তার উত্তর জেনে নিন

  • Post author:
  • Post last modified:April 15, 2022
  • Reading time:13 mins read

রোজা নিয়ে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন এবং তার উত্তর জেনে নিন- রমজানের মাসআলা সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নত্তর!

ঢেকুর আসলে রোজা ভাঙ্গবে?

সেহরির সময় কোনো ব্যক্তি এত পরিমাণ খেয়েছে যে, সূর্যোদয়ের পর তার মধ্যে ঢেকুর আসতে শুরু করে। সঙ্গে পানিও বের হয়। এর দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (সূত্র : ফাতাওয়া রশিদিয়া, পৃষ্ঠা ৩৭১)।

সেহরি না খেলে রোজা হবে?

সেহরি খাওয়া সুন্নত, এটি রোজার অংশ নয়। সেহরি না খেলেও রোজা হয়ে যায়। (মুসনাদে আহমদ ২/৩৭৭; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৯৭) আর রমজান মাসে কোনো কারণে রাতে নিয়ত করতে না পারলে এবং সুবহে সাদিকের পর থেকে রোজা ভঙ্গের কোনো কারণ পাওয়া না গেলে দুপুরের আগ (অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের আগ) পর্যন্ত নিয়ত করার সুযোগ থাকে। তবে রাতে নিয়ত করে নেওয়াই উত্তম।

[শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪০৪; কিতাবুল আছল ২/২২৬; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৯]

ভুলে ইফতার করে ফেললে রোজা হবে?

সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল এখনো সূর্যাস্ত হয়নি। এমন অবস্থায় রোজা কি ভেঙে যাবে? ভেঙে গেলে একটি রোজা কাজা করাই কি যথেষ্ট হবে, নাকি কাফফারাও দিতে হবে? এ ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে হুকুম হলো, ভুল সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি রোজা কাজা করে নেবে। তবে কাফফারা আদায় করতে হবে না।

হজরত হানজালা (রা.) বলেন, ‘আমি রমজান মাসে হজরত উমর (রা.)-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে কিছু পানীয় পেশ করা হলো এবং কেউ কেউ সূর্য ডুবে গেছে মনে করে তা পান করল। তখন মুয়াজ্জিন উচ্চৈঃস্বরে বললেন, আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহর কসম, সূর্য এখনো ডোবেনি, তা উদিত অবস্থায় আছে। তখন হজরত উমর (রা.) বললেন, যারা ইফতার করে ফেলেছে, তারা যেন তার পরিবর্তে আরেকটি রোজা রাখে। আর যারা ইফতার করেনি, তারা যেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত তা পূর্ণ করে।’ [মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/১৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৩৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ৩৬৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৯০]

গর্ভবতী নারী রোযা ভেঙ্গে ফেললে পরবর্তীতে তার কতটি রোযা কাযা করতে হবে? ফিদিয়া দিলে হবে কি?

বিষয়ঃ মহিলারা গর্ভ অবস্থায় রোজা ভাঙ্গার অথবা রোজা রাখা/না রাখার হুকুম কি?

গর্ভ অবস্থায় রোজা ভাঙ্গলে পরবর্তীতে ১টি রোজার জন্য কতটি রোজা রাখতে হবে?

পরবর্তীতে রোজা না রাখতে পারলে কি করুনীয়?

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রসূতি নারীরা এক প্রকার অসুস্থ্য। আর অসুস্থ্যদের ক্ষেত্রে বিধান হল, যদি রোযা রাখতে সক্ষম না হয়, অর্থাৎ রোযা রাখলে গর্ভের বাচ্চার মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানান, কিংবা রোযা রাখলে মায়ের অসহনীয় কষ্ট হয়, তাহলে রমজানে রোযা না রাখার সুযোগ আছে। তারপর রমজানের পরবর্তীতে কাযা করে নিতে হবে। একটি রোযার জন্য একটি রোযাই কাযা করতে হবে। বেশি করতে হবে না।

যদি পরবর্তীতে রোযার কাযা আদায় না করেই মারা যায়, বা এমন অবস্থায় পৌছে যায় যে, রোযা রাখতে আর পারবে না, তাহলে উক্ত রোযাগুলোর ফিদিয়া আদায় করে দিবে। প্রতিটি রোযার জন্য একজন মিসকিনকে দুইবেলা খানা খাওয়াবে বা এর সমমূল্য দান করে দিবে। কিন্তু রোযা রাখতে সক্ষম হলে ফিদিয়া দিলে আদায় হবে না।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ [٢:١٨٣]

أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [٢:١٨٤]

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।

গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [সূরা বাকারা-১৮৩-১৮৪]

فى الفتاوى التاتارخانية- اذا خافت الحامل أو المرضع على أنفسهما أو على ولدهما جاز له الفطر، وعليهما القضاء، (الفتاوى التاتارخانية – كتاب الصوم، فصل الأسباب المبيحة للفطر-3/404)

وفى حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح- ( واختلف الترجيح في ) صوم ( المريض إذا نوى واجبا آخر ) بصومه ( في ) شهر رمضان ) الخ وقال فخر الإسلام وشمس الأئمة الصحيح أنه يقع صومه عن رمضان وفي البرهان وهو الأصح، (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-644

والله اعلم بالصواب

রোযা অবস্থায় তেল জাতীয় দ্রব্যাদী মালিশ করলে কি রোযার ক্ষতি হবে?

কিছু মলম (যেমন tiger balm, Radiant, Icy-cool ইত্যাদি) আছে, যেগুলো মালিশ করলে খুব দ্রুত ব্যথার উপশম হয়। রোযা অবস্থায় এগুলো মালিশ করলে রোযার কোন ক্ষতি হয় কি?

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

এতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। প্রয়োজনে তা মালিশ করা যাবে।

عَنْ قَتَادَةَ: «يُسْتَحَبُّ لِلصَّائِمِ أَنْ يَدَّهِنَ حَتَّى تَذْهَبَ عَنْهُ غُبْرَةُ الصَّائِمِ»

হযরত কাতাদাহ রা. বলেন,‘রোযাদারের তেল ব্যবহার করা উচিত, যাতে রোযার কারণে সৃষ্ট ফ্যাকাশে বর্ণ দূর হয়ে যায়। [মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/৩১৩, হাদীস নং-৭৯১২]

রোজা রেখে কি সিগারেট খাওয়া যাবে?

রোজা রেখে সিগারেট খেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। রোজার আরবী হল সাওম। আর সাওম অর্থ বিরত থাকা।

সাওমের শর্ত হল সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সমস্ত প্রকার পানাহার, অশ্লীলতা, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা/সাওম।

রোযাঃ সুবেহ-সাদিকের সময় থেকে সূর্যাস্তের সময় পর্যন্ত সমস্ত অশ্লীল কাজ ও আহার থেকে নিজেকে বিরত রাখার নামই রোযা।

রোজা রেখে সিগারেট খেলে রোজা ভেঙ্গে যায়। রোজা থেকে কোনো খাবার,পানীয় বা ধোয়াজাতীয় কোনো কিছু ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়। আর সিগারেট ধোয়াজাতীয় জিনিস, অতএব সিগারেট খেলে রোজা ভেঙ্গে যায়।

রোজা রেখে স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা হবে?

স্বপ্নদোষের কারণে রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ স্বপ্নদোষ রোযাদারের অনিচ্ছায় ঘটে থাকে।

ইমাম নববী ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে বলেন:

আলেমগণের ইজমা হচ্ছে- কারো স্বপ্নদোষ হলে রোযা ভাঙ্গবে না। কারণ সে ব্যক্তি এক্ষেত্রে অপারগ। যেমন- কারো অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোন একটি মাছি যদি উড়ে এসে কারো পেটে ঢুকে যায়। এ মাসয়ালার দলিলের ক্ষেত্রে এটাই হচ্ছে- ভিত্তি। পক্ষান্তরে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি বমি করেছে, কিংবা যার স্বপ্নদোষ হয়েছে, কিংবা যে শিঙ্গা লাগিয়েছে তার রোযা ভাঙ্গবে না” হাদিসটি ‘যয়িফ’ (দুর্বল); যা দলিল পেশ করার উপযুক্ত নয়।[সমাপ্ত]

তিনি ‘মুগনি’ গ্রন্থে (৪/৩৬৩) আরও বলেন:

কারো যদি স্বপ্নদোষ হয় তার রোযা ভাঙ্গবে না। কেননা স্বপ্নদোষ তার অনিচ্ছায় ঘটে থাকে। সুতরাং এটি ঐ মাসয়ালার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ – কেউ যদি ঘুমিয়ে থাকে আর তার গলার ভেতরে কোন কিছু ঢুকে যায়।[সমাপ্ত]

শাইখ বিন বায (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে দিনের বেলায় ঘুমিয়েছে এবং তার স্বপ্নদোষ হয়েছে, বীর্যও বের হয়েছে; সে কি ঐ দিনের রোযার কাযা পালন করবে?

জবাবে তিনি বলেন:

তার উপর কাযা আবশ্যক নয়। কেননা স্বপ্নদোষ তার ইচ্ছাধীন নয়। কিন্তু, তার উপর গোসল ফরয; যদি বীর্য দেখে থাকে।[মাজমুউল ফাতাওয়া (১৫/২৭৬)]

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) কে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল রমযানের দিনের বেলায় যার স্বপ্নদোষ হয়েছে?

জবাবে তিনি বলেন: তার রোযা সহিহ। স্বপ্নদোষের কারণে রোযা ভাঙ্গবে না। কেননা স্বপ্নদোষ তার এখতিয়ারে নেই। ঘুমন্ত অবস্থায় কলম তুলে রাখা হয়।[সমাপ্ত]

স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্রে (১০/২৭৪) এসেছে:

যে ব্যক্তির রোযা অবস্থায় কিংবা হজ্জ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হয়েছে তার কোন গুনাহ নেই; তার উপর কাফ্‌ফারা নেই। এটি তার রোযার উপর, হজ্জের উপর বা উমরার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। তার উপর ফরয হল: জানাবাতের গোসল করা; যদি সে বীর্যপাত করে থাকে।[সমাপ্ত]

রোজা রাখার নিয়ত করে সেহরি খেয়ে ঘুমানোর পর যদি কারো স্বপ্নদোষ হয়, তাহলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভঙ্গ হয় না।

আবু সাঈদ খুদরি রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ বলেছেন তিনটি জিনিস রোজাকে ভঙ্গ করে না। শিঙা, বমি, স্বপ্নদোষ। (তিরমিজি শরীফ, মেশকাত শরীফ)

উত্তর : সিয়ামরত আবস্থায় যদি কারো স্বপ্নদোষ হয়, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হবে না, যেহেতু তার অনিচ্ছায় এ কাজটি হয়েছে। যে কোনো আমলের মধ্যে যদি ইচ্ছেকৃত বিষয় না থাকে বা অনিচ্ছাকৃত কোনো আমল বান্দার কাছ থেকে হয়ে যায়, এটা যদি সিয়াম ভঙ্গকারী হয়ে থাকে, তাহলে এর মাধ্যমে সিয়াম নষ্ট হয় না।

আমি মনে করি, না। তবে, এটি অনুভব করার পর আতিদ্রুত নিজেকে পাক পবিত্র কোরে ফেলাটিই উত্তম।

যে সমস্ত কারণে রোযার ক্ষতি হয় না

ভুলক্রমে পানাহার করা।

আতর সুগন্ধি ব্যবহার করা বা ফুল ইত্যাদির ঘ্রাণ নেওয়া।

নিজ মুখের থুথু ও কফ জমা না করে গিলে ফেলা।

শরীর বা মাথায় তৈল ব্যবহার করা।

ঠাণ্ডার জন্য গোসল করা।

ঘুমে স্বপ্নদোষ হওয়া।

রোজা অবস্থায় করোনার টিকা নিলে কি রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে?

অতি জরুরি প্রয়োজন হলে দিতে পারেন। কিন্তু সমস্যা না থাকলে না নেওয়াই উত্তম।

ভ্যাক্সিন, টিকা, ইঞ্জেকশন (যেগুলো খাবারের বিকল্প নয়) সিয়ামরত অবস্থায় ভ্যাক্সিন, টিকা বা এমন কোনো ইঞ্জেকশন নেয়া বৈধ যেগুলোর দ্বারা খাদ্য বা পানির চাহিদা পূরণ হয় না। অর্থাৎ যেই ইঞ্জেকশন খাদ্য বা পানীয় এর বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো সিয়ামের কোনো ক্ষতি করবে না। এছাড়াও ইনসুলিন নিলেও সিয়ামের কোনো ক্ষতি হয় না।

অসুস্থ্য ব্যক্তির জন্য গ্লুকোজ বা স্যালাইন নিলে সিয়ামের ক্ষতি হবে না। তবে সুস্থ্য ব্যক্তির জন্য তা মাকরুহে তাহরিমি-নাজায়েজ।

তথ্য : Muslim day app.

রোজা মুসলমানদের উপর কখন ফরজ হয়েছ?

ইসলামের অনেক ফরজ ও ওয়াজিব কাজ কোনো না কোন আল্লাহর প্রিয় বান্দা তথা নবী-রাসূল কিংবা তাদের পরিবারের আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তাদের স্মরণার্থে উম্মতদের জন্য অপরিহার্য করা হয়েছে।

তেমনি আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর একটি স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে মাহে রমজানের রোজা মুসলমানদের উপর ফরজ করা হয়েছে। রমজানের এমন দিনে বেশ কিছুদিন রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মোহাম্মদ (সা.) হেরা পর্বতের গুহায় অতিবাহিত করেছিলেন।

তখন হুজুর (সা.) দিনের বেলায় পানাহার করতেন না। আর রাতে আল্লাহ পাকের জিকীরে মশগুল থাকতেন। প্রিয় নবীর এই এবাদত বন্দেগী আল্লাহর কাছে এত পছন্দনীয় হয় যে দিনগুলি স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাসূলের সুন্নতকে উম্মতে মোহাম্মদীর মাঝে স্থায়ী করতে রোজা ফরজ করে দেয়া হয়।

রোজা রাখা প্রিয়নবী (সা.) এর পছন্দের এবাদত ছিল। যখন রমজানের রোজা ফরজ হয়নি তখনও তিনি আশুরার দিন রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের (রাদি.) রোজা রাখার আদেশ করতেন। পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ করে দেয়া হয় তখন তিনি ও তার সাহাবারা আশুরার রোজা রাখা ছেড়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে সাহাবি হযরত ইবনে উমর (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সৈয়্যদুনা মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিন রোজা পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও দিয়েছেন। পরে যখন রমজানের সিয়াম ফরজ হলো তখন তা ছেড়ে দেওয়া হয়। (বুখারী-তৃতীয় খণ্ড)

আরেক হাদিসে বর্ণনা রয়েছে, হযরত মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার দিন রোজা রাখতো। রাসূলুল্লাহও (সা.) এই রোজা রাখার নির্দেশ দেন। অবশেষে রমজানের রোজা ফরজ করা হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যার ইচ্ছা আশুরার রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা সে রোজা (আশুরার) রাখবে না। (বুখারী- ৩য় খণ্ড)

রমজানের রোজা মহানবী (সা.) এর পূর্ববর্তী নবী-রাসূল ও তাদের উম্মতদের জন্যও ফরজ ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ও তার উম্মতদের জন্যও ফরজ করা হয়েছে।

রমজানের রোজার পালনের নির্দেশমদিনায় দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান মুমিন মুসলমানের ওপর রমজানের রোজা ফরজ হয়। আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করেন-شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلٰى مَا هَدٰىكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ‘ রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কুরআন। মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী।অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময় পূরণ করবে।

আল্লাহ চান তোমাদের জন্য যা সহজ তা, আর তিনি চান না তোমাদের জন্য যা কষ্টকর তা, যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার জন্য এবং যেন তোমরা শুকরিয়া আদায় করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

আরো পড়ুন,

রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব

রমজান মাসের দোয়া এবং আমল সমূহ

রমজানের মাসআলা সমূহ

রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন

রমজানের সময় সূচি 2022

ইফতারের দোয়া এবং নিয়ত

ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের থুথু গিলে ফেললে কি রোজা ভেঙে যাবে বা হালকা হয়ে যাবে?

থুথু গিলে ফেললে রোজা ভঙ বা হালকা হয়ে যাবে এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। ছোটবেলায় যখন মাঝেমধ্যে রোজা রাখতাম তখন সারাদিন থুথু ফেলতেই থাকতাম। কিন্তু এটা একটি ভ্রান্ত ধারণা।

থুথু গিলে ফেললে রোজা ভেঙে বা হালকা হওয়ার কোন অবকাশ নাই। যদি থুথু মুখ থেকে বের করে আবার মুখে দিয়ে গিলে ফেলেন তখন রোজা ভঙ হবে।

থুতু গিলে খাওয়ার সাথে রোজা ভঙ্গের কোনো সম্পর্ক নাই।

মুখের থুথু যত বেশি হোক না কেন তা গিলে ফেললে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। (আলমগীরী)

ছবিতে দেয়া ৯ নম্বর মাসয়ালাটি পড়ে দেখুন। (বেহেশতী জেওর থেকে)

উত্তর জানতে চাওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

যদিও এব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তবুও সাধরণ জ্ঞানের ভিত্তিতে জানানোর চেষ্টা করছি মাত্র।

“থুতু” শব্দটা শোনামাত্রই এটা মনে হতে পারে – ও জিনিসটা খাবার জন্যে নয়। আসলে এ জিনিসটা মুখে উৎপন্ন স্যালাইভা বা, লালা যা আমাদের খাবার পাচন বা হজম করতে সহায়তা করে। এ থেকে বোঝা যায় এই স্যালাইভা বা, লালা সাধারণ পানির মতো নয়। এর শক্তি অনেক বেশী। তাই এটা খুবই স্বাভাবিক যে, আমাদের পেটে যথেষ্ট পরিমানের খাবার না থাকলে ঐ স্যালাইভা বা, লালা আমাদের পাচন তন্ত্রের ক্ষতিসাধন করবে।

একারণে অনেকে রোজা রাখা অবস্থায় মুখের লালা গিলতে বারণ করে থাকেন। তবে হঠাৎ করে কিছুই হবেনা, ক্ষতি যদি কিছু হয়ও, তা খুবই ধীরেধীরে হবে। একদিনেও নয়, এই ক্ষতিসাধন সময়সাপেক্ষ।

তাই আমার মনে হয়, এতকিছু ভেবে উদ্বেগ না বাড়িয়ে বরং এসব চিন্তা থেকে দূরে থাকাই ভাল। কারোর রোজা কবুল হবে কি না, সে বিচার করার ক্ষমতা মহান আল্লাহ্‌ নিজের কাছেই রেখেছেন। আমাদের উচিৎ, নিয়েত সঠিক রাখা।

এ পৃথিবী আমাদের কাছে একটা পরীক্ষা হল (Examination hall), যেখনে আমরা পরীক্ষককে দেখতে না পেলেও, পরীক্ষক আমাদের সবার উপর নজর রাখছেন। আমাদের উচিৎ সৎ ভাবে পরীক্ষা দেওয়া। ভক্তি করলে তা মন থেকেই করা উচিৎ:, লোক দেখানো নয়। কোনো কাজ করলে তা নিষ্ঠার সঙ্গেই করা উচিৎ। নিজের সর্বোত্তম চেষ্টা করার পর ফলাফলের দায়ীত্ব মহান আল্লাহ্ -র উপর ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করি।

সবশেষে বলি অন্যদের দেখানোর জন্য নয়, নিজের উপকারের জন্য রোজা রাখুন, নিজের উপকারের জন্যই পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ যথা সময়ে আদায় করুন।

নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকুন। আমি নিশ্চিত, মহান আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে প্রত্যেকের ক্রিয়াকর্মের উত্তম প্রতিদান দেবেন।

মহান আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন, সুস্থ রাখুন।

আমিন…

বেশী করে গিলে ফেললে সমস্যা হবে।

আমি রোজার রাখার জন্য সেহরির সময় আযানের চলা অবস্থা পানি খেয়েছি। এতে কি আমার রোজা পরিপূর্ণ হবে নাকি রোজাটা বাতিল হয়ে যাবে?

রোজা হবেঃ

আপনি পানি পান করছেন বা খাবার গ্রহন করছেন এমন অবস্থায় যদি আজান দেয়া শুরু করে, তাহলে আপনার প্রয়োজন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পান করতে বা খেতে পারবেন। এতে কোন সমস্যা হবে না। রোজা হয়ে যাবে। খেয়াল রাখতে হবে, প্রয়োজন পূর্ণ বলতে বুঝানো হয় ততটুকু খাবারকে যতটুকু খেলে আপনার মেরুদন্ড সোজা থাকবে। অর্থাৎ আপনি দুর্বল হয়ে পড়বেন না।

রোজা হবে নাঃ

যদি আজান শুরু হওয়ার পর আপনি পানি পান বা কোন খাবার গ্রহন করা শুরু করেন। এবং খাবার খেতেই থাকেন বা পানি পান করতেই থাকেন। তবে রোজা হবে না। এক্ষেত্রে কাজা আদায় করতে হবে।

তবে মনে রাখতে হবে, আমরা যেহেতু জনবহুল এলাকাতে বাস করি এবং এক সাথে অনেক মসজিদে আজান দেয়া হয়। তাই সাহরিতে আপনার কানে শোনা সর্বশেষ আজান কে অনুসরন করতে হবে। আর ইফতারীর বেলায় সর্ব প্রথম শোনা আজানকে অনুসরন করতে হবে।

আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।

সাহরি র শেষ সময় সঠিক ভাবে নির্ণয় করা সহজ না। তাই বাংলাদেশে ৫ মিনিট সতর্কতা মূলক সময় দেয়া থাকে। অনেক মসজিদে ঐ সময়ের আগেই আজান হয়। যদি আজান সময়ের আগে দিয়ে ফেলে তবে রোজা পূর্ণ হবে আশা করা যায়।

যেমন সাহরির সতর্কতা মূলক শেষ সময় যদি হয় চারটায়

আজান হবে চারটা পাচ মিনিটে।

কিন্তু আজান দিল চারটা এক মিনিটে।

এই সময় পানি খেলে ক্ষতি নাই।

আপনি যদি ইচ্ছাকৃত পানি পান করে থাকেন – তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আপনাকে রোজাটি আবার রেখে দিতে হবে।

যদি, অনিচ্ছাকৃত হয়ে থাকে, তবে রোজা আদায় হয়ে যাবে।

ধন্যবাদ।

আমি হাদিস বিশেষজ্ঞ নই। তবে আপনার ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে আপনার রোযার কোন ক্ষতি হবে না ইনশাল্লাহ।

রোজা হবেনা, কারণ আজান দেওয়া হয় সুবহে সাদিকের পর, আর সেহেরি শেষ করতে হই সুবহে সাদিকের আগে।

তবে যদি আপনি ভুল করে এমনটা করে থাকেন তাইলে গুনাহ হবেনা, তবে আপনার উচিৎ হবে যেহেতু ফরয রোজা তাই সতর্কতাবশত রোজার পর এটার পরিবর্তে আরেকটি রোজা রাখা।

ধন্যনাদ🙂

চোখে ড্রপ দিলে কি রোজা ভাঙে?

হ্যাঁ।কারণ চোখের ড্রপ গলাতে যাই।আপনি ড্রপ দেয়ার পর দেখবেন আপনার কাছে তিতে লাগছে।

রক্ত বের হওয়া, থুথু গিলে ফেলা, সুগন্ধির ঘ্রাণ নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

কিছু পরিমাণ রক্ত, সামান্য পরিমাণ থুতু ও অনিচ্ছাকৃত সুগন্ধ নিলে বা বের হলে রোজা ভঙ্গ হয় না। অধিক পরিমাণ ও ইচ্ছাকৃত ভাবে উপরের তিনটি বস্তুর যে কোন একটি নিলে রোজা হালকা হয়ে যাবে। ভুল করে যদি আপনি ভুরিভোজ ও করেন আপনার রোজার কোন ক্ষতি হবে না। টেলিভিশন এ ভালো মানের আলেমদের প্রশ্নোত্তর পর্ব দেখতে পারেন। কিছু বঙ্গানুবাদ কোরআন হাদিস পড়াশুনা করেন । আল্লাহ্ আপনাকে সাহায্য করুন। আমিন।

রোজা অবস্থায় কি ঠোঁটে ভ্যাসলিন দেওয়া যাবে? এবং নামাজের শুরুতে প্রতি রাকাতে কি আউযুবিল্লাহ পড়তে হবে?

এটির আসল উত্তর ছিল: রোজা অবস্থায় কি ঠোঁটে ভ্যাসলিন দেওয়া যাবে? এবং নামাযের শুরুতে প্রতি রাকাতে আউযুবিল্লাহ পড়তে হবে?

রোজা রাখা অবস্থায় ঠোঁটে ভ্যাসলিন দেয়া যাবে কি না তা আমি ঠিক জানি নাহ,তবে আমার মনে হয় দেয়া যাবে কারণ আপনি তো বাচ্চা না যে ওগুলা খেয়ে পেলবেন।না আউযুবিল্লাহ পড়তে হবে না।আর যদি পড়েন তাহলে তো ভালোই। আপনার ক্ষতি হচ্ছে না।বরং লাভই হচ্ছে।

ঠোটে ভ্যাসলিন: প্রয়োজন দেখা দিলে ঠোটে হালকা করে দিতে পারেন। 

আউযুবিল্লাহ: একটি নামাজে একবারই আউযুবিল্লাহ পড়তে হয়।

এবং নামাযের শুরুতে প্রতি রাকাতে আউযুবিল্লাহ পড়তে হবে?

জ্বী, রোযা অবস্থায় ঠোটে ভেসলিন দেয়া যাবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুখের ভিতরে কোনভাবে না চলে যায়।

আর নামাজের শুরুতে প্রতি রাকাতে আউজুবিল্লাহ পড়তে হবেনা। শুধু ১ম রাকাতে পড়তে হবে। এরপর প্রতি রাকাতের শুরুতে শুধু ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।

জাজাকাল্লাহু খাইরান।

যেসব কারণে রোজা ভাঙ্গে না:

০১. অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলা-বালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।

০২. অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।

০৩. অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।

০৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।

০৫. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।

০৬. ইনজেকশন নেয়া।

০৭. ভুলক্রমে পানাহার করা।

০৮. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেয়া।

০৯. নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।

১০. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।

১১. ঠাণ্ডার জন্য গোসল করা।

১২. মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার দরুন দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো গলার ভেতর না পৌঁছানো।

১৩. ঘুমের মাঝে স্বপ্নদোষ হলে।

১৪. স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে কোনো কসরত ছাড়া বীর্যপাত হলে।

১৫. স্ত্রীকে চুম্বন করলে, যদি বীর্যপাত না হয় (রোজা না ভাঙলেও এটা রোজার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী)।

১৬. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত খেয়ে ফেললে (যদি পরিমাণে কম হয়), পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।

এবার জেনে নি কি কি কারণে রোযা ভেঙে যায়:

রোজা ভঙ্গের অনেক কারণ রয়েছে। রোজা নিয়ে যেসব বই রয়েছে বা সিয়ামের আহকাম-সংশ্লিষ্ট যে বইগুলো রয়েছে, সেগুলো থেকে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তারপরও রোজা ভঙ্গের মৌলিক বিষয়গুলো আমরা বলতে পারি।

সিয়াম ভঙ্গের জন্য প্রথমত যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো—স্ত্রী সহবাস অথবা স্বেচ্ছায় যেকোনো ধরনের যৌনকাজে সম্পৃক্ত হওয়া। এটি সিয়াম নষ্ট করে দেয়। তাই কেউ যদি স্বেচ্ছায় কোনো যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য চেষ্টা করেন, সেটা স্ত্রী সহবাস অথবা যেকোনোভাবে হোক না কেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে পানাহার করা। স্বেচ্ছায় যদি কোনো ব্যক্তি পানাহার করেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।

তৃতীয় বিষয়টি একটু দীর্ঘ আলোচ্য বিষয়। সেটা হচ্ছে পানাহারের অর্থ যেখানে পাওয়া যায়, অর্থাৎ যে কাজের মধ্যে পানাহারের অর্থ পাওয়া যায়, সে কাজগুলোও সিয়ামকে নষ্ট করে। যেমন আপনি যদি ধূমপান করেন, তাহলে আপনার সিয়াম নষ্ট হবে। অথবা আপনি কিছু গিলে ফেললেন, যেমন—পাথর বা এই জাতীয় কিছু আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে সিয়াম নষ্ট হবে। তবে যদি থুতু গিলে থাকেন, তাহলে সিয়াম নষ্ট হবে না, কারণ থুতু পানাহারের মতো বিষয় নয়। এটা শরীরের অভ্যন্তরীণ একটা বিষয়।

আর পানাহারের অর্থ নেই যে বিষয়গুলোতে সেগুলো সিয়াম নষ্ট করে না, যেমন—চোখে ড্রপ দিলে, কানে ড্রপ দিলে, ইনসুলিন নিলে, ইনজেকশন নিলে সিয়াম নষ্ট হবে না। কিন্তু পানাহারের অর্থ পাওয়া যায় এমন ইনজেকশন বা স্যালাইন নিলে, যেগুলো খাদ্যের কাজ করে, শক্তিবর্ধক অথবা খাদ্যের ব্যবস্থা আছে, সেই স্যালাইন যদি কেউ নিয়ে থাকেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম, সিয়াম ভঙ্গের মৌলিক বিষয় হচ্ছে তিনটি। প্রথমত, স্ত্রী সহবাসসহ যেকোনো ধরনের যৌনাচার। দ্বিতীয়ত, পানাহার বা খাদ্য গ্রহণ করা। তৃতীয়ত, পানাহারের অর্থ যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, সেগুলো সিয়াম নষ্ট করে থাকে।

আমি রোজা রেখে খারাপ কাজ করেছি।আমার বাকি রোজাগুলো কি কবুল হবে, নাকি শাস্তি দেওয়া হবে এবং বাকি রোজা কি কবুল হবে না?

আপনি রোজা রেখেছেন বলেই খারাপ কাজের অপরাধবোধ আপনার মনে জন্মেছে। রোজা দ্বারা যে উপকৃত হচ্ছেন এটাই তার প্রমাণ। রোজা রাখতে থাকুন এবং খারাপ কাজ থেকে ফিরে আসার সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। রোজার কারণে যদি আপনার খারাপ কাজের মাত্রা কমতে থাকে তবে আপনার রোজার সওয়াব বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

প্রথমত আমি মুসলিম নই তবুও উত্তর দিচ্ছি তবে ভুল ত্রুটি মার্জনীয় । আপনি রোজা রেখে রোজার দিনে একটা খারাপ কাজ করেছেন তাই বাকি রোজা গুলো নিয়ে চিন্তিত! কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে আপনি সারাদিন সুন্দর ও পরিপূর্ণ ভাবে রোজা রেখে ইফতার করার পর আপনি ইসলাম বিরুদ্ধ কিছু কাজ করলেন যা ইসলামে হারাম করা হয়েছে এক্ষেত্রে আমি মনে করি আপনার সেই পরিপূর্ণ রোজাও বিফল হবে । কারণ কিছু সময়ের জন্য কঠোর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সফল ভাবে ধর্ম ধারণ করে এবং পরক্ষণে তা অশিকার করা হলে বা না মেনে চললে তা ভণ্ডামি ছাড়া আর কি হতে পারে ?

তবে আমি যতটুকু জানি যে একটি রোজা বিফল হলে আরো ৬০ টি রোজা দেওয়ার নির্দেশ আছে এখন এই ৬০ টি রোজার মাঝে যে আপনি একটিও খারাপ কাজ করবেন না তার কি নিশ্চয়তা আছে ? এখন এক্ষেত্রে আপনার রোজা গুলো কবুল হবে কিনা জানা নেই ।

নতুন বিয়ে করেছি। গোসল ফরয অবস্থায় শুনেছি, সেহরী খাওয়া যাবে। তবে, গোসল পরদিন সকালে করে নিলে কি রোজা কবুল হবে?

জি ফরজ গোসল না করে অযু করে সাহরী খাওয়া যায়। কিন্তু ফজরের নামাজের জন্য ত গোসল করতেই হবে

এতে কোন ছাড় নেই। গোসলের জন্য নামাজ কাজা করা যাবেনা সাবধান। তাহলে বুঝা গেল যে এমন হতে পারে যে হয়তো রাত ১২/১ টায় সহবাস করেছে তারপর ঘুমিয়ে গেছে যখন সে ঘুম থেকে উঠেছে তখন সহরীর লাস্ট সময় এমন অবস্থায় অযু করে সাহরী খেয়ে রোজা রাখবে। কিন্তু ফজর নামাজের জন্য তাকে গোসল করতেই হবে। না করলে রোজা হবে না এমনটা নয়

কিন্তু নামাজ হবে না জেনে শুনে নামাজ কাজা করা মহাপাপ তাই ফজরের আগে আপনাকে গোসল করতেই হবে। আসা করি বুঝতে পেরেছেন

গোসল সকালে করলে ফজর নামাজ পড়বেন কখন? সেহরি খাওয়া সুন্নত কিন্তু নামাজ ফরজ. এই কমনসেন্স আমাদের মাথায় কেন আসেনা? নতুন বিয়ে করেছেন এজন্য শুভেচ্ছা রইল।

আলহামদুলিল্লাহ, কোন মুসলিম ব্যাক্তির উপর গোসল ফরজ হলে তাকে অবশ্যই গোসল করতে হবে।

1/সাহরী খাওয়া যাবে কি?

উত্তর: সহবাসের পর খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য কাজের পূর্বে গোসল করে নেওয়া উত্তম। তবে জরুরি নয়। গোসল করা ছাড়াও খাওয়া যায়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুভাবেই বর্ণিত আছে। তাই গোসল ফরজ অবস্থায় সেহরি খেতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: মুসলিম শরিফ, হাদিস নং-২৫৯২, কিতাবুল ফাতাওয়া, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪২৮।

2/ পরের দিন গোসল করলে রোজা হবে কি?

উত্তরে : বলবো আল্লাহ তায়ালা মুসলিম ব্যাক্তির উপর ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন সর্ব অবস্থায় (মহিলাদের জন্য কিছু দিন/কিছু সময় ছাড় দিয়েছেন) প্রতি দিন, রাতে ৫ … (আরও)

রোজা হবে কি হবে কি হবে না বিষয়টা পাশে রাখলাম।

১, প্রশ্ন হচ্ছে- গোসল ফরয অবস্থায় শুনেছি, সেহরী খাওয়া যাবে। তবে, গোসল পরদিন সকালে করে নিলে কি রোজা কবুল হবে?

তার মানে আপনি সেহরির আগ মুহূর্তে সহবাস করেছেন,

কারন সেহরি শেষ মূহুর্তে থেকে সিয়াম এর সময় মাগরিব পর্যন্ত বহাল থাকে। এইটা ক্লিয়ার

এখন আমার মন্তব্য হচ্ছে,এইটা প্রশ্নের কাতারে কিভাবে আসলো ভাই। যেখানে আপনি সেহরি শেষ করে কি ফজরের নামাজ পরেন না??? নামাজের জন্য কি গোসল করবেন না?? সকাল পর্যন্ত অপবিত্র অবস্থায় থাকবেন?? অপবিত্র অবস্থার জন্য কি বিরক্তকর লাগে না??

যাবে কিন্তু ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য গোসল করা লাগবে।

ভাইজান, বিয়ে একটি হালাল সম্পর্ক।আপনি বিয়ের পর যৌন সম্পর্ক করা হালাল।তাই আপনি যেকোন সময় করতে পারেন।এতে আপনার গোশল ফরজ হবে। তবে আপনি ওজু করে নামাজ ছাড়া অন্যান্য ইবাদত করতে পারবে।কিন্তু আপনি সকালে গোশল করলে তো ফযরের নামাজ পড়তে পারবেন না বা পড়লেও তা হবে না।তাই আগেই আপনাকে গোশল করতে হবে। ধন্যবাদ

হ্যা,হবে। তবে আপনি ফজরের ফরজ নামাজটি মিস করবেন।

ফরজ গোসল করতে বিলম্ব করলে এমনকি ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলেও রোজা নষ্ট হবে না – ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

আলহামদু লিল্লাহ।. কেউ যদি রাতের মধ্যে স্ত্রী সহবাস করে এবং অপবিত্র অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যায় তার রোজা শুদ্ধ হবে; অনুরূপভাবে রাতের বেলা অথবা দিনে ঘুমের মধ্যে কেউ যদি অপবিত্র হয়ে যায় তার রোজাও শুদ্ধ হবে। বিলম্ব করে ফজর শুরু হওয়ার পরে গোসল করতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু কেউ যদি রমজানের দিনের বেলায় অর্থাৎ ফজরের পর থেকে সূর্য ডোবার পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্ত্রী সহবাস করে তার রোজা নষ্ট হয়।[স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র (১০/৩২৭)] তবে দেরি করে সূর্যোদয়ের পর নামায আদায় করা আপনার জন্য হারাম। আপনার উপর ফরজ ছিল যথাসময়ে নামায আদায় করা। আপনার তীব্র লজ্জা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কোন ওজর নয়; যার কারণে নামায আদায়ে এ বিলম্ব করা যেতে পারে। এখন আপনার কর্তব্য হচ্ছে- এ গুনাহ থেকে তওবা করা, ইস্তিগফার করা (ক্ষমা প্রার্থনা করা)। আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাকে সকল ভাল কাজ করার তাওফিক দিন।

রোজা রেখে উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে কি রোজা হালকা হয়ে যাবে?

রোযাদারের জন্য গোসল করা বৈধ। গোসল রোযার উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

পরিবর্তিত জীবন ধারায় মানুষের সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে জানতে অনেকে আলেমসমাজের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। সংক্ষেপে এখানে সে প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে।

বিবস্ত্র হয়ে অজু বা গোসল করা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এমন : প্রয়োজন ছাড়া বাথরুমে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা উচিত নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। সুতরাং তা পরিহার করা উচিত। এক হাদিসে এসেছে, মুয়াবিয়া বিন হাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাস্থান সর্বদা হেফাজত করো (অর্থাৎ ঢেকে রাখো)।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও একাকী থাকে! (তখনো কি তা ঢেকে রাখতে হবে?)।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কেননা আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৬৯)

তবে কেউ যদি কোনো কারণে বিবস্ত্র হয়ে অজু বা গোসল করতে চায়, তাহলে লোকচক্ষুর আড়ালে করলে এর অবকাশ আছে। বিশেষত, স্বামী ও স্ত্রী একসঙ্গে গোসল করার কথা হাদিসে এসেছে। মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রী মাইমুনা (রা.) ও আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে একত্রে গোসল করেছেন। এটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়ে কেউ কেউ মুসা (আ.)-এর বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার ঘটনাও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। (দেখুন : বুখারি, হাদিস : ৩৪০৪)

সুতরাং এ বিষয়ে অবকাশ থেকে যায়, যদিও এটি সুন্নত নয় এবং অনুত্তম কাজ।

আর একটি বিষয় হলো, বিবস্ত্র হয়ে অজু বা গোসল করলে অজু হওয়া-না হওয়া এবং গোসল হওয়া-না হওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অজু ও গোসলের অঙ্গ পরিপূর্ণভাবে ধৌত হয়ে গেলে বিবস্ত্র থাকলেও অজু ও গোসল হয়ে যাবে।

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখার বিধান কী?

প্রকৃতপক্ষে রোজা রাখা যাবে কি যাবে না তা নির্ভর করে গর্ভধারণকারী নারীর উপর। গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্যে উপর ভিত্তি করেই একজন গর্ভবতী নারী চাইলে রোজা রাখতে পারেন।গর্ভাবস্থায় রোজা রাখাটা কি শিশুর জন্য নিরাপদ কিনা তার সঠিক উত্তর দেওয়া মুশকিল। অনেক গবেষণা সত্ত্বেও এই কথা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে মা রোজা রাখলে গর্ভের শিশু নিরাপদ কি না।

যদি আপনি স্বাস্থ্যবতী হোন এবং গর্ভাবস্থায় আপনি জটিলতা মুক্ত থাকেন, তবে রোজা রাখলে আপনার কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।তারপরেও আপনি রোজা রাখতে পারবেন কি পারবেন না, তা জানতে রোজার পূর্বেই আপনার ডাক্তারের মতামত নিন। একজন পুষ্টিবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলে নিন এবং একটি সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করুন।

গর্ভাবস্থায় রোজা সম্পর্কে গবেষণা এবং ধর্মীয় মতামতঃ

গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় রোজা রাখলে গর্ভস্থ শিশুর গ্রোথ, ডেভেলপমেন্ট এবং জন্মকালীন ওজনের উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হয় না। গর্ভস্থ বাচ্চা মায়ের পুষ্টি নিয়েই বেড়ে ওঠে। সুতরাং মায়ের কোনো সমস্যা না হলে গর্ভস্থ বাচ্চার সমস্যা হওয়ার কথা না।তবে গর্ভধারণ করার প্রথম তিন মাসের মধ্যে রোজা রাখলে সন্তানের ওজন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেটাও খুব একটা উল্লেখযোগ্য হারে নয়। এবং এতে বাচ্চার ওপর কোনো প্রভাবও পড়ে না।

কিছু কিছু গবেষণায় বলা হয় মায়ের রোজা রাখা বা না রাখায় শিশুর উপর যতসামান্য কিংবা তেমন কোন প্রভাব পড়েই না বলা যায়। তবে কিছু কিছু গবেষকেরা বলে থাকেন, গর্ভাবস্থায় মায়ের রোজা রাখার প্রভাব সাথে সাথে শিশুর উপর না পড়লেও পরবর্তীতে শিশুর বুদ্ধিমত্তা এবং পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এখানে কিছু গবেষণার চিত্র তুলে ধরা হলো:

১। জন্মের পরপরই শিশুর কোন সমস্যা আছে কিনা তা নির্ণয় করতে যে ‘এপগার টেস্ট’ (Apgar Score) করানো হয়, সেখানে যেসব শিশুর মায়েরা রোজা রাখেন কিংবা রাখেন না তাদের ফলাফলে কোন পার্থক্য চোখে পড়ে না।

২। গর্ভধারণ করার প্রথম ট্রাইমেস্টারে যদি রোজা রাখা হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে শিশু তূলনামূলক কিছু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যদিও অন্যান্য গবেষণা অনুযায়ী ওজনের এই পার্থক্য বেশ কমই বলা যায়।

৩। গর্ভাবস্থায় কিংবা গর্ভধারণের সময় যেসব মায়েরা রোজা রেখে থাকেন, তাদের শিশু, তূলনামূলক যারা রোজা রাখেন না, তাদের তূলনায় কিছুটা খর্বকায় এবং হালকা পাতলা হয়ে থাকে৷ তবে এক্ষেত্রেও ব্যবধান অতি নগণ্য।

৪। আপনি যখন রোজা রাখেন, আপনার রক্তের রাসায়নিক ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা যায়। তবে এ পরিবর্তন আপনার কিংবা আপনার শিশুর উপর কোন খারাপ প্রভাব ফেলে না।

অনেকে ধারণা করে থাকেন, গর্ভে শিশু কিভাবে বেড়ে উঠে তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে রোজা। আবার অনেকে বলে থাকেন ‘প্রিম্যাচিওর লেবার’ এর সাথেও এর একটি সংযোগ রয়েছে। অনেকে বলেন, যেসব মায়েরা রোজা রাখেন, তাদের প্রিম্যাচ্যুর বেবি হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশী থাকে৷ যদিও প্রিম্যাচ্যুর বেবি হওয়াটা অনেক ক্ষেত্রেই কোন দেশে বসবাস করছেন তার উপর নির্ভর করে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আলেমগন গর্ভবতী মায়ের রোজা রাখা না রাখা বিষয়ে কোরান হাদিসের আলোকে মতামত প্রদান করেছেন। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা যারা তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত হতে পারেন বা যেখানে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে এমন মায়েদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয় বলে বেশিরভাগ আলেমগন মতামত দিয়েছেন।

এছাড়া ইসলামে ‘ফিদায়াহ’ নামের একটি শব্দের উল্লেখ আছে যার অর্থ হলো,কোন ব্যক্তি রোজা রাখতে অক্ষম হলে তিনি যতদিন রোজা রাখতে পারবেন না সেইসব দিনের রোজার সময় গরিব-এতিমদের খাওয়ানোর মাধ্যমে তা পূরণ করে নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে বেশ মতভেদ আছে। অনেকের মতে যেসব রোজা রাখতে পারবেন না সেগুলো পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পড় কাজা করতে হবে।

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখবো কিনা সেই সিদ্ধান্ত কিভাবে নিব?

এটা অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার ওজন এবং আপনার জীবনযাত্রার উপর – আপনার ওজন কতটা ভালো এবং আপনি কতটা সুস্থ জীবনযাপন করে থাকেন। আপনার গর্ভের শিশু আপনার কাছ থেকেই পুষ্টি উপাদান নিয়ে বেঁচে থাকে। আপনার শরীরে যত বেশী শক্তি জমা থাকে, রোজা আপনার শিশুর উপর তত 

এইবারে কয়টা রোজা রাখবেন?

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। (Holy Quran 2:183)

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। (Holy Quran 2:185)

রোজা অবস্থায় চুল অথবা হাতের নখ কাটা যাবে কি?

প্রিয় বন্ধু আপনি প্রশ্ন করেছেন রোজা অবস্থায় চুল অথবা হাতের নখ কাটা যাবে কি?

হ্যাঁ রোজা অবস্থায় চুল ও হাতের নখ কাটা যাবে। রোজা ভঙ্গের যে সকল কারণ রয়েছে সে সকল কারণ সমুহের মধ্য থেকে এগুলো পড়ে না ।তাই রোজা অবস্থায় হাতের নখ ও চুল কাটতে পারবেন ।

তেমনি ভাবে রোজা অবস্থায় হাতের নখ ও চুল কাটতে গিয়ে যদি রক্ত বের হয়ে যায়, তদুপরি ও রোজা ভঙ্গ হবে না ।

আশা করি উত্তরটি পেয়েছেন আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক আমল করে দোজাহানের কামিয়াবী অর্জন করার তৌফিক দান করুন।,,,, আমিন

হজের ৯/১০দিন না কাটা ভালো।

সারা বছর নামাজ না পড়া কোন বেনামাজি ব্যক্তি যদি রমজান মাসে রোজা রাখে, তাহলে কি ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী তার রোজা কবুল হবে?

আল্লাহর সুন্নাহ বা নিয়ম হল ইসলাম। এই জন্য আপনাকে কোরআন বুঝে পড়তে হবে, কিছু জিনিস রান্নার রেসিপির মত বর্ণনা করা যায়, জিভে চেখে স্বাদ নেয়া যায় না, মর্মার্থ হৃদ্যইয়াংম করতে হয়। সংক্ষেপে আমি যা বুঝি তা বোঝাবার চেস্টা করি।

নামাজ নামে কোন জিনিস কোরআনে নাই, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কোরআনে নাই, নামাজের নিয়ম কোরআনে নাই, কেনো ? আল্লাহ কোরআন এ ৬৭ বার সালাতের কথা বলেছেন অথচ কোরআন দিয়ে কেউ সালাত পড়তে / আদায় করতে/ কায়েম করতে পারবে না, এটা হয় না। নিসচই আমাদের বোঝার গলদ আছে।

সালাত কায়েম হল আল্লাহর সুন্নাহ / বিধান / আইন / নিয়ম সমাজে প্রতিষ্টা করা, প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরত প্রচেষ্টা করা। তাহলে মিথ্যা বললে সালাত কায়েম হবে? চুরি করলে সালাত কায়েম হবে? প্রতারনা করলে সালাত কায়েম হবে? যাকাত আদায় না করলে সালাত কায়েম হবে? রোজা না রাখলে সালাত কায়েম হবে? হবে না।

অনেকে মনে করে আল্লাহ নবি রাসুল পাঠিয়েছেন এই জন্য যেন মানুষ আল্লাহর তোষামোদি করে। আসলে সালাত কায়েম হলে বা না হলে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। সালাত কায়েম আমাদের জন্য, আমাদের সমাজের জন্য।আমাদের মঙ্গলের জন্য। যখন সমাজে সালাত কায়েম হয় তখন তার ফল এই ইহকালেই পাওয়া যায়। এর জন্য পরকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগে না।

এবার রোযার কথায় আসি। আল্লাহ কোরআনে কোথাও বলেননি একদিন / দুইদিন বা রোজা না রাখলে আপনাকে দোযখের আগুনে পুরাবেন। আল্লাহ আমাদের কষ্ট দেয়ার জন্য, আগুনে পুড়াবার জন্য দোযখ তইরি করেন নি। তিনি আমাদের জন্য বেহেস্ত / জান্নাত তইরি করেছেন।

বিচারের দিনে আল্লাহ আমাদের ন্যায়- বিচার করবেন। ন্যায় বিচারের জন্য আমরা কেউ কেউ জাহান্নামে যাব। আল্লাহর এই ন্যায় বিচারের জন্য দেখা যাবে আমাদের মধ্যে থেকে এমন অনেক আলেম, ইমাম, রাজা বাদশাহ্র জায়গা জাহান্নাম হয়ে গেছে। আর জান্নাত যাব আল্লাহর দয়ায়, করুনায়। আল্লাহর এই করুনা এই অনুগ্রহ তখনই আমাদের হবে যখন আমরা আল্লাহর সালাত কায়েম করব। রোযা না রাখলে সালাত কায়েম কি হবে? এই রোযা আমাদের আল্লাহর অনুগ্রহ / করুনা / দয়া পেতে সাহায্য করবে।

যারা আল্লাহ কে বিশ্বাস করে সৎকাজ করে আর পরকালে বিশ্বাস করে তারাই সফলকাম।

কবুল হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।তবে সে রোযাদারকে স্বাভাবিক রোযাদারের মতোই গন্য করা হবে। রমযান মাস অনেক ফযীলতের মাস।এ মাসে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। কোনো ব্যাক্তি যদি গোনাহ করে এবং তার গোনাহের পরিমাণ যদিও পাহাড় সমতুল্য হয়,আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দিতে পারেন। তবে শর্ত হলো আল্লাহ তায়ালার দরবারে তার গোনাহের জন্য তওবা করতে হবে এবং গোনাহের কাজটাকে অন্তর থেকে ঘৃণা করতে হবে । আল্লাহ পরম করুণাময় ও ক্ষমাশীল

যদি কোনা ব্যক্তি রোজা রেখে নামাজ না পড়ে তাহলে কি তার রোজা হবে?

হ্যা,রোজা হয়ে যাবে। রোজা রাখা ফরজ এবং নামাজ পড়াও ফরজ। যদি রোজা আদায় করেন তবে এর আলাদা হিসাব হবে। আর নামাজ পড়লে নামাজের আলাদা বিচার হবে। কিন্তু এতে রোজা পরিপূর্ণ হবে না। কারণ সিয়াম বা রোজা রাখার যে কারণ, খারাপ থেকে বিরত এবং বেশি ইবাদত তা কিন্তু আদায় হবে না।

একটা ফরজ ভঙ্গ বা অমান্য মানে গুনাহ, আর এর আলাদা হিসাব হবে। তবে ইচ্ছে কৃত সালাত এবং সাওম বাদ দিবেন না।

রোজা হয়ে যাবে কিন্তু তাকওয়ার দাবি সে অবশ্যই নামাজ পড়বে। আবার হাদীসে এমন এসেছে যে কোন ব্যক্তি অশ্লীলতা, গীবত ইত্যাদি পাপ কর্ম ছাড়তে পারলো না কিন্তু সে পানাহার থেকে বিরত রইলো। এই বিরত থাকতে কোন উপকার ই হলো না। সুতরাং পরিপূর্ণতা লাভ করার জন্য নামাজ পড়া উচিৎ। ইনশাল্লাহ অল্পের (,কাজের) মাধ্যমে সে পরিপূর্ণ হেদায়েত ও পেয়ে যেতে পারেন।

রোজা ও নামাজ দুইটা আলাদা আলাদা ইবাদত। রোজা না রাখলে নামাজ হবে না বা নামাজ না পরলে রোজা হবে না, এমন কোন বিষয় নাই।

তবে সালাত আদায় করা বাধ্যতামূলক, যেটার কোন অন্য বিকল্প নাই। কিন্তু রোজার সাথে এটার কোন সম্পর্ক নাই। সালাতও আল্লাহের আদেশ, রোজাও আল্লাহের আদেশ।

বাংলাদেশে বসবাস করে যারা সৌদিআরব-এর সাথে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে তাদের রোজা ও ঈদ হবে কি?

ইসলাম বলে আপনি যে এলাকার মানুষ, সেই এলাকার চাঁদ দেখে, চাঁদ নিরভ্র বিষয় গুলির সিদ্ধান্ত নিতে। এবার আপনি বলুন, আপনি কোনটা সঠিক মনে করেন। চাইলে রেফেরেঞ্চে হাদিস খুঁজে দেখতে পারেন বুখারি/ মুসলিমি সব হাদিসের বইয়েই আছে।

বাংলাদেশে বসবাস করে যারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে তাদের রোজা ও ঈদ হবে কিনা সেটা বলা যায় না। বরং তাদের শেষের দিনের রোজার পরে যে ঈদ তারা করে যেদিন বাংলাদেশ 29 অথবা 30 রোজা থাকে, এই দিনটি তারা রোজা না রাখার কারণে হয়তোবা গুনাহগার হবে। কিন্তু এর আগের দিনগুলোর রোজা যেহেতু একই নিয়মে সেটা কবুল হয়ে যায়। আর আমাদের রোজার মধ্যেই যে তারা ঈদ পালন করে এ জন্য তাদের ঈদের নামাজও সহীহ হবে না।

Marketer Rashed

This Is Marketer Rashed! A Digital Marketing Expert With Over 6+ Years of Experience On Digital Marketing. CEO & Founder at "Digital Marketing MasterMind" and Madaripur Outsourcing Institute.

Leave a Reply

12 + twenty =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.